View cart “ত্রিপুরা লোককাহিনী” has been added to your cart.

চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বৌদ্ধ সভ্যতা/CHATTAGRAM PONDITBEHAR BISHOBEDALOY O BODDO SOBBYOTA

চট্টগ্রাম। আমাদের জন্মভূমি। পৃথিবীর অন্যতম প্রা চীন বন্দর-শহর। পণ্ডিতেরা বলেন, যে-জাতির অতীত যত দীর্ঘ এবং স্বচ্ছ সে-জাতি ততবেশি সভ্য। একটা জাতির বা জনগোষ্ঠির যদি অতীত কৃষ্টি, ঐতিহ্য, জীবন-জীবিকার সামূহিক সংগ্রাম, সংস্কৃতি ধারণা স্পষ্ট না থাকে, তাহলে সেইজাতি বা জনগোষ্ঠির ওপর কোন সভ্যতা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। সভ্যতার আলোকে এই জনপদ কতো প্রাচীন, তা আজও স্পষ্ট নয়।
চট্টগ্রামের ইতিহাস সম্ভবত দশ হাজার বছরেরও অধিক হতে পারে। তার প্রমাণ আধুনিক চট্টগ্রাম নগর হতে বিশ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড পর্বতে প্রাপ্ত কৃপাণ হতে মেলে। কৃপাণগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পণ্ডিতরা এই মত পোষণ করেন যে, আট থেকে দশ হাজার বছর আগে এই জনপদে মানববসতি গড়ে উঠেছিল। সেই ইতিহাস আমাদেরকে কোন প্রাচীন যুগের গহীনে নিয়ে যাবে, তা ভেবে পুলকিত হতে হয়। তবে পুরাকীর্তির সুরক্ষা না-থাকার কারণে এককালে যা দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাকীর্তি গড়ে উঠেছিল অন্যকালে তা-ই হয়ে যায় প্রতড়বতাত্তি¡ক ধ্বংসাবশেষ। কালের নিষ্ঠুর আঁচড়ে এমনটি হওয়ায় আশ্চর্য হবার কিছু নেই। যুদ্ধবিগ্রহ ও দখল-বেদখলে পরাশক্তির বর্বরতায় এমনটি ঘটেছে চট্টগ্রামে।
এ গ্রন্ত্রে ’জনবসতি, নামকরণের যৌক্তিকতা, পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বৌদ্ধসভ্যতার উত্তান-পতনের ইতিহাসের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ অঞ্চলের ইতিহাসের একটা বৈশিষ্ট্য হলো অতীত যুগে বাংলা, ত্রিপুরা এবং আরাকান এই তিন রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল চট্টগ্রাম। এর ফলে চট্টগ্রামে স্বাধীন সত্তার প্রকাশ ঘটবার সুযোগ ঘটেনি। কেবলমাত্র দু’টি ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। প্রথমত; তিব্বতীয় মৌর্য ঐতিহাসিক লামা তারানাথের গ্রন্থে এবং আরাকানের সিথাং মন্দিরের শিলালিপিতে চন্দ্র উপাধিধারী দীর্ঘকাল স্থায়ী এক রাজবংশের উলেখ পাওয়া যায়। এই রাজবংশের রাজারা বেশ ক্ষমতাশালী ছিলেন। তারানাথের মতে চন্দ্রবংশীয়দের রাজধানী চট্টগ্রামেই ছিল। দ্বিতীয়ত; চট্টগ্রাম হরিকেল রাজ্যের বৃহদংশ গঠন করেছিল এবং হরিকেল রাজ্যের রাজধানী বর্ধমানপুর চট্টগ্রা মের দেয়াঙ (দেবগ্রাম)
সন্নিবহিত স্থানে অবস্থিত ছিল।
তাম্রলিপি, প্রাচীন চৈনিক পরিব্রাজকের বিবরণ, স্থাপত্যকীর্তির ধ্বংসাবশেষ ইত্যাদি সূত্রসমূহ চট্টগ্রামেই
রিকেলরাজ্যের অবস্থান প্রমাণ করে। হরিকেলরাজ্যের রাজধানী বর্দ্ধমানপুর দেয়াং পার্বত্য অঞ্চলেই যে বস্থিত ছিল তা একরূপ নিঃসন্দেহে বলা যায়। ঐতিহাসিক হান্টারের গ্রন্থে সংশিষ্ট অঞ্চলে ‘বর্দ্ধবান’ নামক স্থানের লেখ থাকায় মনে করা যেতে পারে যে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বর্দ্ধমান (পুর) এর অস্তিত্ব ছিল। লোকমুখে বর্দ্ধমান বা বর্দ্ধবান বড়উঢানে পরিণত হয়েছে। আবার বড়উঢানকে শুদ্ধ বাংলায় রূপ দেওয়া হয়েছে বড়উঠান রূপে।
এখানকার দেয়াঙ পাহাড়কে কেন্দ্র করে এক সময় গড়ে ওঠেছিল ‘চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়’। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান স্থল ঝিওরী গ্রাম থেকে ৬৬টি মূর্তিসহ চট্টগ্রামের বিভিনড়ব অঞ্চলে অসংখ্য বৌদ্ধ মহাজান দেবদেবীর মূর্তি আবিস্কৃত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। তিব্বতীয় সূত্রে উলিখিত
প্রাচীন যুগের পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয় যে চট্টগ্রামে অবস্থিত ছিল এ বিষয়ে দ্বিমত নাই। কিন্তু চট্টগ্রামের কোন অঞ্চলে অবস্থিত ছিল তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের শেষ নাই। প্রাচীন বৌদ্ধযুগে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বিহার বা বৌদ্ধ উপাসনালয়কেন্দিক্র ছিল। যেমন তক্ষশীলা, নালন্দা, উদ্ভাণ্ডপুর , পাহাড়পুর ইত্যাদি। দেয়াঙ পাহাড়ের পাদদেশে ঝিওরি গ্রামে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মূর্তি রক্ষণাগার আবিস্কৃত মূর্তিগুলো যে, বৌদ্ধবিহারের সম্পদ ছিল তাতে সন্দেহ নাই। এই প্রাচীন বৌদ্ধবিহারই যে পণ্ডিতবিহার নামে পরিচিত ছিল তা একরূপ জোর দিয়েই বলা যায়। তিব্বতীয় সূত্র মতে পণ্ডিতবিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাভদ্র বা
তিলোপা (তৈলিকপাদ) বহু বৌদ্ধ মহাযানী গ্রন্থ প্রণেতা এবং এই গ্রন্থসমূহ তিব্বতে সংরক্ষিত আছে। খ্যাতনামা পণ্ডিতদের মতে পণ্ডিতবিহার হরিকেল রাজ্যের রাজধানী বর্দ্ধমানপুরের নিকটে অবস্থিত ছিল। আমরা এ ব্যাপরে একমত পোষণ করি। যাই হোক, প্রাচীনকালের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনুপুঙ্খ ঘটনাপ্রবাহ এবং দ্ব›দ্ব-বিরোধ সম্পকের্ সুস্পষ্টভাবে জানা না-গেলেও সবকিছইু হয়েছে বন্দরকে কেন্দ্র করে। আরাকান রাজ, সোনারগাঁও-এর সলু তান, গৌড়ের সলু তান, ত্রিপুরার রাজা, মোগল-পাঠান এমনকি হাজার মাইল দূরের ইংরেজ-পর্তুগীজরাও দখল-বেদখলের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল এই শহরকে কেন্দ্র করে। নাফ নদীর তীর থেকে ফেনী নদীর তীর পর্যন্ত এই জনপদে রাজা-বাদশারা একেক সময় একেক স্থানে রাজধানী কিংবা কর্মস্থল গড়ে তুলেছিলেন।সেই ইতিহাসের অনেক কিছুই আজ আমাদের হাতে নেই। প্রাকৃতিকভাবে প্রাণীর জন্ম-মৃত্যু র মতো নক্ষত্রেরও জন্মমৃত্যু আছে, ঝড়-বন্যা-জলোচ্ছা¡ স-ভূমিকম্পের কারণে নগরের উত্থান-পতন হয়েছে বারবার। দরূ -ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, এক মানবগোষ্ঠি প্রয়ােজনে নগর গড়েছে, আরেক জনগোষ্ঠি তাদের প্রয়ােজনে সে-নগর ধ্বংস করেছে। প্রাচীন এই জনপদ শহরমাত্র ছিল না, এর সূচনাই বন্দরকে কেন্দ্র করে। বাংলা বন্দর
বা ‘পোর্টো-গ্র্যান্ডি’ নামে যার পরিচিতি ছিল পৃথিবীজুড়ে। চট্টগ্রাম মানে সমুদ্রপথে পৃথিবীর সংযোগস্থল।

 

জামাল উদ্দিন

৳ 250

About The Author

জামাল উদ্দিন

জামাল উদ্দিন

ইতিহাসের কিছু হীরক্ষন্ডকে উপহার দিয়েছেন। দুই পর্বে তাঁর প্রনীত দেয়াং পরগনার ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি আমাদের অতিহ্যের সম্পর্কসূত্র বহু সুদূরের। তিনি দ্বিতীয় খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত দেয়াঙয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন পন্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রথম সনাক্ত করেন।
জামাল উদ্দিন পেশায় সাংবাদিক। জন্ম ৮মে ১৯৫৯। চট্টগ্রাম জেলা আনোয়ারা থানার শিলাইগড়া গ্রামে। ৬৯-৭০ সালে কৈশোর জীবন থেকে ঘনিষ্ঠভাবে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি তাঁর আকর্ষন। জামাল উদ্দিন ৭৫’-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরবর্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। সেই কৈশোরকাল থেকে একই সাথে তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্র অ সাময়িকীতে গবেষনামূলক লেখালেখি শুরু করেন। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতাকে বেঁচে নিয়েছেন ১৯৮০ সাল থেকে । জাতীয় দৈনিক বাংলা বানী। চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক সেবক-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবনের শুরু। পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক রুপালী , দৈনিক খবর ও দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সটাফ রিপোর্টার ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ পদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা জীবন অতিবাহিত করেছেন।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “চট্টগ্রাম পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বৌদ্ধ সভ্যতা/CHATTAGRAM PONDITBEHAR BISHOBEDALOY O BODDO SOBBYOTA”

Your email address will not be published. Required fields are marked *