হজরত শাহ সূফী আমানত খান (র.)

সূফী দরবেশদের মাজারগুলো আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। হজরত শাহ আমানত (র.) এর কেরামতের কথা ছেলেবেলা থেকেই শুনে আসছি। কেরামতগুলো শুনে মনে খুব আলোড়ন সৃষ্টি হতো। তাই করুণা লাভের জন্য ঘন ঘন তাঁর মাজার জেয়ারত করতাম। তাঁর অলৌকিক ঘটনাবলী আমাদের সমাজ জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটমান অনেক করুণ স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিশেষ করে আদালতের ঘটনাটি সমাজের সকলস্তরে কিংবদন্তির আকার ধারণ করেছে।

হজরতের জীবনধারা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গবেষণা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এরই ধারাবাহিকতায় হজরতের আওলাদ আমার স্নেহভাজন আমানউদ্দীন আবদুল্লাহ হজরতের জীবন এবং কারামতকে কেন্দ্র করে একাধিক বই লিখেছেন। বইগুলো খুবই সময়োপযোগী এবং হজরতের ভক্তদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। এরই ফাঁকে আবদুল্লাহর সাথে আমার বেশ কয়েকবার হজরতের জীবন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

৳ 200

About The Author

আমানউদ্দীন আব্দুল্লাহ

আমানউদ্দীন আব্দুল্লাহ

জন্মঃ ২৮ মার্চ ১৯৫২
চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৭৩-এ স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর ঢাকা সেন্ট্রাল ল’ কলেজে আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য ফ্রান্স গমন।
বংশগত ঐতিহ্যের প্রবহ্মান ধারায় ১৯৮২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের রাম্পুর শরীফের প্রখ্যাত সূফী সাধক হযরত শাহ সূফী মুহাম্মদ উলাহ খান (র)-এর হাতে নক্‌শবন্দিয়া-সুজাদ্দেদীয়া তরীকায় শিষ্যত্ব গ্রহন। এলমে মা’রিফাতে আত্মবিকাশের নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট সূফী সাধকদের পবিত্র আস্তানা শরীফ থেকে ফয়েজ ও বরকত লাভের ঐকান্তিক বাসনা তাঁর জীবন বৈশিষ্ট্যরই চলমান অনুষঙ্গ।
১৯৬৫ সালে চট্টগ্রামের আজাদী পত্রিকায় ‘আগামীদের আসর’ এর মাধ্যমে লেখালেখির হাতেখড়ি। প্রথম প্রকাশিত কবিতা গ্রন্থ ‘চাঁদনী আমার চাঁদনী’ । অতঃপর হযরত শাহ সূফী আমানত খান (র) – এর বিষয়ে পরীক্ষা পর্বের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রকাশকাল যথাক্রমে ১৯৭৪, ১৯৯৯, ২০০৪ এবং ২০১১। তাঁর গবেষনার পিছনে তরীকপন্থী সহধর্মীনি মুছাম্মৎ তাহেরা খানমের অবদান ফল্গুধারার মতো সতত ক্রিয়াশীল।

বলাকা প্রকাশনঃ

সূফী দরবেশদের মাজারগুলো আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। হজরত শাহ আমানত (র.) এর কেরামতের কথা ছেলেবেলা থেকেই শুনে আসছি। কেরামতগুলো শুনে মনে খুব আলোড়ন সৃষ্টি হতো। তাই করুণা লাভের জন্য ঘন ঘন তাঁর মাজার জেয়ারত করতাম। তাঁর অলৌকিক ঘটনাবলী আমাদের সমাজ জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটমান অনেক করুণ স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিশেষ করে আদালতের ঘটনাটি সমাজের সকলস্তরে কিংবদন্তির আকার ধারণ করেছে।

হজরতের জীবনধারা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গবেষণা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এরই ধারাবাহিকতায় হজরতের আওলাদ আমার স্নেহভাজন আমানউদ্দীন আবদুল্লাহ হজরতের জীবন এবং কারামতকে কেন্দ্র করে একাধিক বই লিখেছেন। বইগুলো খুবই সময়োপযোগী এবং হজরতের ভক্তদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। এরই ফাঁকে আবদুল্লাহর সাথে আমার বেশ কয়েকবার হজরতের জীবন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হজরতের আধ্যাত্মিক সাধনা, তাঁর সময়কাল এবং অলিখিত ও বিস্মৃতপ্রায় কারামত সমূহ উদ্ধার করে ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

ইতোমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি হজরত শাহ আমানত (র.) কাদেরীয়া, মাদারীয়া এবং নক্শবন্দীয়া-মুজাদ্দেদীয়া তরীকার খেলাফত প্রাপ্ত হলেও তিনি একান্তভাবে মুজাদ্দেদীয়া সিল্সিলার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তাঁর পীর হজরত আবদুর রহিম শহীদ (র.) নক্শবন্দীয়া-মুজাদ্দেদীয়া তরীকার অন্যতম বুজুর্গ ছিলেন। ঢাকা লক্ষ্মীবাজার মিয়া ছাহেবের ময়দানে তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে।

হজরতের প্রধান খলিফা শাহ সূফী মুহাম্মদ দায়েম (র.) এর মাজার শরীফও ঢাকা আজীমপুর দায়রা শরীফে।

হজরতের পবিত্র স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের নাম রাখা হয়েছে ‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর’ এবং কর্ণফুলী নদীর উপর স্থাপিত সেতুর নাম রাখা হয়েছে ‘শাহ আমানত সেতু’। এতদৃষ্টে মনে হয় বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে শাহ আমানত (র.) অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি মূলত চট্টগ্রাম তথা সারা ভারত উপ-মহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দরবেশ ছিলেন।

হজরত শাহ আমানত (র.) এর দরগাহ শরীফে শরীয়ত-বিরুদ্ধ কোন কাজ হয়না। এটা তাঁর সূফী জীবনের অন্যতম শিক্ষা। সেখানে প্রায় সময় কুরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকার এবং মিলাদ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

প্রতি বৎসর জিলক্বদ মাসের শেষ দিন হজরতের ওরশ শরীফ পালন করা হয়। ওরশ শরীফে আগত গরু ছাগল জবেহ করে হজরতের ভক্তবৃন্দকে তবরুক হিসেবে খাওয়ানো হয়।

আমার অনেক দিনের সুপ্ত একটি ইচ্ছা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হজরতের নেয়ামতপূর্ণ অলৌকিক ঘটনাগুলো সংগ্রহ করে জন সমক্ষে প্রচারের ব্যবস্থা করবো। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। এমতাবস্থায় আমার কাঙ্খিত কাজগুলো অত্যন্ত পরিশ্রম করে স্নেহের আবদুল্লাহ করে দিয়েছেন; তা দেখে আমি অত্যন্ত খুশী হয়েছি।

ইতোমধ্যে আমার স্নেহভাজন ছাত্র সুফীতত্ত্বের স্বনামধন্য গবেষক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর এর সাথে আমার  এ ব্যাপারে আলাপ হয়েছে বেশ কয়েকবার। তার সনির্বন্ধ অনুরোধ আমাকে এই বইয়ের মুখবন্ধ খানা লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আজ জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করি, তিনি যেন হজরত শাহ আমানত (র.) এর রূহানী ফয়েজের কিঞ্চিত বিন্দু আমাদের নসিব করেন।

 

ড. আবদুল করিম

প্রফেসর এমিরেটাস, ইতিহাস বিভাগ ও প্রাক্তন উপাচার্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

হিলভিউ হাউজিং সোসাইটি

সি/৩৪, রুবিগেট, পলিটেকনিক ইন্সষ্টিটিউট, চট্টগ্রাম

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “হজরত শাহ সূফী আমানত খান (র.)”

Your email address will not be published. Required fields are marked *