সেনাসমর্থিত তত্ত্বাধায়ক সরকারের দু’বছর

লেখকের প্রারম্ভিকতা

১১ জানুয়ারি ২০০৭ জরুরি অবস্থা জারীর সাথে সাথে সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট হয়ে উঠে। দেশবিদেশের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক শাসনের সূচনা মনে করলেও সেনাবাহিনী বিশেষ করে সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ আশ্বস্ত। করছিলেন যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঠিক যতটুকুন সময় প্রয়ােজন তার বাইরের অন্য কোন উচ্চাভিলাষ সেনাবাহিনীর নেই। ঢাকাস্থ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম বলেছিলেন, যদি এই বক্তব্য সত্য হয়, তবে তা হবে গােটা পৃথিবীতে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ বা মডেল। দু’বছর রাষ্ট্র এগিয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রের বেশির ভাগ নাগরিক ঐ সময়টুকু কিভাবে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তার একটি স্কেচ ভিন্ন- এই বইয়ের অধিক পরিচয় নেই। পঞ্চদশ সংবিধান সংশােধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে এবং এর অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের ৪-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রদত্ত রায়। পূর্ণাঙ্গ রায়টি ৭৪৭ পৃষ্ঠায় ইতােমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান লেখার বিষয়বস্তুর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বিধায় মহামান্য হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও অপারেটিভ অংশ সংযােজন নিতান্তই তথ্য সংরক্ষণের তাগিদ থেকে। এজন্যে জনাব মােঃ আবদুল হালিমের নিকট কৃতজ্ঞ রইলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হউক বা না হউক, এ প্রজন্মের একজন হিসেবে মনে করি সুশাসন প্রশ্নে স্বাধীনতাত্তোর সবচে সুবর্ণ সময় হলাে ২০০৭-০৮। সমস্ত অবিশ্বাস ও সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণিত করে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবিসহ নির্ভুল ভােটার তালিকা তৈরির মাধ্যমে যে বিশাল কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা হয়েছে- তা দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক ট্রেনে উঠতে বাধ্য করেছে। তাছাড়া ওয়াদামাফিক যথাসময়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সম্পন্ন করা, সেনাবাহিনী ও টেকনােক্র্যাট ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের, এক ঐতিহাসিক কৃতিত্ব। আমি শুধু সময়টুকুর রাজনৈতিক আবেদন স্বল্পপরিসরে ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি যাতে কালের গর্ভে হারিয়ে না যায়। এ গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন আমাদের সময়ের বাঙালি মননের অগ্রণী পুরুষ প্রফেসর ড. অনুপম সেন। শুধু তাঁর নিকট কৃতজ্ঞই থাকলাম- এর বাইরে আর কোন মন্তব্য করার যােগ্য আমি নই।। সবশেষে কৃতজ্ঞ রইলাম আমার জীবনসঙ্গিনী অধ্যাপিকা রুনু মজুমদারের প্রতি, যার উৎসাহ না পেলে এ গ্রন্থই আমার লেখা হতাে না। আর অগ্রজ প্রতীম সুভাষ দেউদ্যোগ না নিলে ছাপাই হতাে না।

৳ 200

About The Author

শংকর প্রসাদ দে

শংকর প্রসাদ দে

শংকর প্রসাদ দে। অর্থনীতি, পরিবেশ, সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক, অ্যাডভোকেট। নানা সামাজিক –সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোক্তা-সংগঠক। জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার দাত্মারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামে। বাবা তেজেন্দ্র লাল দে, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, প্রয়াত। মা, বকুল রানী দে।
শিক্ষাঃ অর্থনীতিতে স্নাতক (সন্মান) ও স্নাতকোত্তর এবং এল.এল.বি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
কর্মজীবনঃ হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে অধ্যাপনা করেন কিছু কাল। এরপর আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে এই পেশায় নিয়োজিত আছেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি, “ঐকতান” সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর প্রতিস্টাতা সভাপতি ছিলেন। অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হেঁয়াকো ডিগ্রি কলেজ। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন। আজীবন সদস্য জগথপুর অনাথ আশ্রম, বাংলাদেশ হিন্দু ফাউন্ডেশন। এছাড়া ফটিকছড়ি উপজেলাধীন একাধিক স্কুল কলেজে , অশ্বীনি তেজেন্দ্র স্মৃতি ট্রাস্ট পরিচালনা করে ও রোটারিয়ান হিসেবে শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। মুক্তিযুদ্ধ , অর্থনীতি, রাজনীতি, বিষয়ে উৎসাহি গবেষক।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “সেনাসমর্থিত তত্ত্বাধায়ক সরকারের দু’বছর”

Your email address will not be published. Required fields are marked *