View cart “বিচিত ভাবনা” has been added to your cart.

মুক্তিযুদ্ধ ও রাউজান/Etihasher Alok-e Mukti Juddho O Raozan

দুটি কথা

ভারতকে বৃটিশদের রাহুমুক্ত করতে ভারতীয়দের অনেক প্রাণের বিনিময়, ত্যাগতিতিক্ষা ও কাঠখড় পােড়ানাের পর এক পর্যায়ে বৃটিশসিংহ অবনমিত হলাে। দ্বিজাতিতত্ত্বকে মূল ধরে ১৯৪০ খৃষ্টাব্দের লাহাের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হলেও সে পর্যায়ে লাহাের প্রস্তাবের মূল প্রস্তাবকে পাশ কাটিয়ে বঙ্গমায়ের অংগ ছেদন করে এর কিছু অংশকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দিয়ে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দিয়ে বৃটিশরা অন্তর্ধান করে। একই ধর্মাবলম্বী হলেও হাজার মাইল দূরবর্তী এ অঞ্চলের লােকদের আচার-ব্যবহার, খাদ্য-বস্ত্র, ভাষা-কৃষ্টি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংহতি-সংস্কৃতি ভাবধারার ভিন্নতার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র চিন্তা করা হয়নি বলে শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তান নামক পাকিস্তানের খণ্ডিত এ রাজ্যাংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ দেশের রাজনীতিবিদ মনীষীরা সন্দিগ্ধ ছিলেন। পূর্ব-পাকিস্তান রাজ্যাংশটা পাকিস্তানিরা ‘ফাও’ হিসাবে পেয়ে তার সম্পদ যেন-তেন উপায়ে পাকিস্তানে পাচার করার নগ্ন প্রতিযােগিতা ও হরেক প্রকারের জোর-জুলুম ও বঞ্চনার প্রতিবাদই পক্ষান্তরে স্বাধীকারের দাবী এবং কালক্রমে স্বাধীনতার দাবীর বাস্তব রূপায়ন নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে বাংলাদেশের আজকের স্বাধীনতা। এদেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূ-খণ্ডের জন-মানুষের লালিত স্বপ্নের সাথে রাউজানবাসীরা একাট্টা হয়ে অস্ত্রহাতে দুর্বার প্রতিরােধ গড়ে তুলেছিল। হানাদার বাহিনীর স্বাধীনতা বিরােধীদের যূপকাষ্ঠে এ থানা এলাকার অগণিত লােক, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে অসহায়ভাবে। কিন্তু রাউজানবাসী মাথা নত করেনি। মুক্তিসেনা সূত্রে জানা যায়, রাউজানের বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের ৩৫ জনের প্রাণ সংহার হয়েছিল মুক্তিসেনাদের বিভিন্ন অপারেশনে। এ বই-এ সরকারী গেজেট অনুযায়ী মুক্তিসেনাদের তালিকা প্রদান করা হয়েছে। অনেক মুক্তিসেনা এ তালিকাকে বিতর্কিত বলে মন্তব্য করেছেন। মুক্তিযােদ্ধাদেরকে সেদিন প্রাণের ভয় তুচ্ছ করে যারা আশ্রয় দিয়েছিল, ভরণ-পােষণ করেছিল, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের খোঁজ রাখেনি কেউ। সেসব দেশপ্রেমিক অকুতােভয় মহা-মানবদের তালিকা তুলে ধরেছি। গ্রুপ কমান্ডারগণ ও কিছু মুক্তিসেনা থেকে তথ্য নিয়ে তাদের অপারেশনের বিষয়ে আলােকপাত করেছি। সম্ভাব্য মুক্তিসেনা সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক তথ্যাদি সবিস্তারে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ বই রাউজানের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নয় তবে ভবিষ্যতে অনুরাগী গবেষকদের কাজে আসবে এ বইয়ের তথ্য ভাণ্ডার, তারা পাবেন অনুপ্রেরণা। বইয়ের শেষাংশে সংযােজন করা হয়েছে রাউজান নামের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক স্থান, ঘটনাপঞ্জী, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, কিছু গ্রামের নাম পরিচিতি ও আরাে অনেক উপাত্ত । এটা রাউজানের ইতিহাসের এক লুপ্তপ্রায় অংশ মাত্র। ইতিহাসের আলােকে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের আলােকে রাউজান-এর সমন্বিত বিষয়ে প্রণীত এ বই-এর বিভিন্নভাবে তথ্য সংহে সাহায্যকারী ও তথ্য বর্ণনাকারীদের নাম যথাস্থানে উল্লেখ করেছি। সাহায্যগ্রহণকারী বইগুলাের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।

কালীন রাউজান থানা এফ.এফ কমান্ডার আমার অগ্রজপ্রতিম এয়াসিন নগরের মােঃ কামাল উদ্দিন চৌধুরী, রাউজান মুক্তিযােদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার আমার কলেজ সহপাঠি তােফায়েল আহমদ, (উক্ত সংসদের-২০১২) বর্তমান কমান্ডার মােঃ আবু জাফর চৌধুরী, পঞ্চম শ্রেণী থেকে আমার শ্রেণীবন্ধু মােঃ আকতার মিয়া, বিশিষ্ট লেখক দৈনিক আজাদীর সহ-সম্পাদক সিদ্দিক আহমেদ ও মিরশ্বরাই কলেজের অধ্যাপক লেখক শিমুল বড়ুয়ার সহৃদয় সহযােগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বইটির *ফ দেখায় সহায়তা করেছেন বিশিষ্ট ছড়া সাহিত্যিক, মুদ্রণ সংশােধন বিশারদ জনাব নুর মােহাম্মদ রফিক। বলাকা প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট ঐতিহাসিক গবেষক জামাল উদ্দিন অনেক ধৈর্য নিয়ে এ বইয়ের তথ্যাদি দেখে দিয়েছেন এবং ঘাটতি পূরণে ও সৌষ্ঠব শােভনে সাহায্য করেছেন। তার প্রেসের কর্মচারীরাও সাহায্য করেছেন অকুণ্ঠভাবে। এজন্যে তাদের সকলকেই জানাই কৃতজ্ঞতা। তথ্য প্রদানকারীদের অনেকেই আজ পরলােকগত। তাদের জীবদ্দশায় এ বইটি হাতে দিতে পারিনি বলে Hঃখ প্রকাশসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞ রইলাম। অনাগত ভবিষ্যতের পাঠক-গবেষকদের স্থানীয় ইতিহাস রচনায় এ বই পাদপীঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে আশায় তাদের উদ্যমী-উদ্যোগী করার প্রেরণা যােগাতে এবং জাগতিক নিয়মে কালের মহাগর্ভে হারিয়ে যাওয়া থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক-স্মৃতি, গণহত্যা-নির্যাতন ও গণদুর্ভোগ-এর ইতিহাসটুকু সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মকে এদেশের স্বাধীনতা লাভের ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়টুকু জানান দেওয়ার জন্যই এ প্রচেষ্টা। দীর্ঘসূত্রিতা, তথ্যের দুস্প্রাপ্যতা, অতিকথন, তথ্য প্রদান বিমুখিতা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সম্ভব। এ দায়ভার অম্লান বদনে স্বীকার করে। শিশু পাঠকদের সহযােগিতা কামনা করছি। আমার অসুস্থ গিন্নী রােকসানা বেগম তথ্য সংগ্রহের সময়ে বিভিন্ন স্থানে আমার সঙ্গী হয়েছেন, রাতে-বিরাতে-গভীর রাতে আমার লেখালেখির কারণে তার সুখনিদ্রার ব্যাখ্যাত হলে মুখ ব্যাদান করেও মৌন থেকে, আমাকে যে সহযােগিতা করেছে তার ঋণ অবশ্যই স্বীকার করি। ছােটছেলে ‘শাহী’ আমার অগােচরে প্রায়ই পাণ্ডুলিপিটা নাড়াচাড়া

নে। তার উৎপাত ও উৎসাহ আমাকে দ্বিগুণ উদ্যমী করেছে সন্দেহ নেই। আমার বন্ধু |||# সাহিত্যিক কবি ও গীতিকার জনাব দেলওয়ার হােসেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ

পর-এর অহর্নিশি তাগিদ বইটির প্রকাশনা তুরান্বিত করেছে। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে নিত করতে চাই না। এ বই অনুরাগী পাঠকদের যদি সামান্যতমও পাঠ-তৃষ্ণা মিটায় ৩৫তই আমার শ্রম সার্থক বলে মনে করব।

ধন্যবাদ

আহমেদ আমিন চৌধুরী

 

৳ 400

About The Author

আহমেদ আমিন চৌধুরী

আহমেদ আমিন চৌধুরী

আহমেদ আমিন চৌধুরী
১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলাধীন রাউজান থানার অন্তর্গত নােয়াজিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আবদুল হক চৌধুরী ও মাতা জোবাইদা বানু চৌধুরী। শিক্ষাজীবনে স্থানীয় গহিরা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক (১৯৬৫), রাউজান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (১৯৬৭) ও স্যার আশুতােষ কলেজ চট্টগ্রাম থেকে স্নাতক (১৯৬৯) ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর পিতা আবদুল হক চৌধুরী ছিলেন একজন বীর মুক্তিযােদ্ধা ও গবেষক, ২০১১ সালে। মরণােত্তর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, চট্টল তত্ত্ববিদ হিসেবে খ্যাত। আহমেদ আমিন চৌধুরী ১৯৭১ সালের ৪ জানুয়ারি পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর ক্যাডেট হিসেবে যােগ দেন। ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় ২৫ মার্চ তিনি পুলিশ একাডেমী সারদায় থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় জনসাধারণের সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পেশাগতজীবনে মালয়েশিয়ার ‘ইপাে শহরে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালে । ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আফ্রিকার নামিবিয়ার স্বাধীনতা প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম ‘আনটাগ’ মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। চাকুরিসূত্রে তিনি সিলেট জেলার হবিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বড়লেখা ও চুনারুঘাট থানায়, কুমিল্লা জেলার চাদপুর ও বি-বাড়িয়ায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার ও ডিএমপি’র গুলশান থানা ও উত্তরা সার্কেলে কাজ করেছেন। একনাগাড়ে সাড়ে ছয় বছর ডিএমপি’র অবিভক্ত সাপ্লাই দফতরে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গােপালগঞ্জে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে চাকুরিরত ছিলেন। চাকুরিজীবনের শেষ ১ বৎসর কুমিল্লায় চাকুরি করে ১৫ জানুয়ারি ২০০৭-এ অবসর গ্রহণ। করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ : ইতিহাস ও ঐতিহ্য-১৯৯০, ২) বাংলাদেশ পুলিশ উত্তরাধিকার ও ব্যবস্থাপনা-১৯৯৭, এর তৃতীয় সংস্করণ-২০১১, ৩) চট্টগ্রাম বাংলার শব্দসম্ভার-১৯৯৮, ৪) পুলিশ আইন সহায়িকা-২০০৪,

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মুক্তিযুদ্ধ ও রাউজান/Etihasher Alok-e Mukti Juddho O Raozan”

Your email address will not be published. Required fields are marked *