ব্যাঙের সর্দি

‘ব্যাঙের সর্দি’ বইয়ের লেখক সত্যব্রত বড়–য়া ইতিমধ্যে রম্য লেখক অর্থাৎ রম্য-রচনাকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।  ইংরেজি সাহিত্যে বেলে লেটার বলে একটি শব্দ রয়েছে বাংলা সাহিত্যের তার প্রতিশব্দ হিসেবে ‘রম্য রচনা’ কথাটি চল হয়েছে। কিন্তু এই শব্দ দু’টোর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সুচারু পরিমার্জিত লঘু সাহিত্য। ইংরেজিতে বলতে হলে বলতে হবে- elegant literature specially applied to light literature। সুললিত ভঙ্গীতে হাল্কা মেজাজে যে সব লেখা- তাকেই বেলে লেটার (Belles Letters) বলা হয়। শব্দটি এসেছে ফরাসী ভাষা থেকে।

বাংলা সাহিত্যে রম্য রচনার বিভাগটি বেশ পুষ্ট। যে প্রবন্ধের রম্যতাই সর্বপ্রথম মনোহরন করবেÑ তাকেই বলা হয় রম্য রচনা! লেখার বিষয় যে রমণীয় হতে হবে এমন নয়, যে কোন বিষয়কেই রসিয়ে রচনা করা গেলে তাকে আমরা রম্য রচনা বলতে পারি। যে কোন বিষয়কেই রসিয়ে চারুত্বমাখা রমণীয়তা দান করলেই হলো। লেখক নিজের মনের খেয়ালকে লঘু চিন্তাকে ললিত ভাষায় হালকাভাবে বর্ণনা করে ও পাঠকের মনেরহরণ করতে পারলে, তরল কল্পনা বিশ্বাসের সাহায্যেÑ তখনই তা রম্য রচনা বলে গন্য করা হয়।

৳ 130

About The Author

সত্যব্রত বড়ুয়া

সত্যব্রত বড়ুয়া

সত্যব্রত বড়ুয়া এক আলোকিত পরিবারের সন্তান। ১৯৪২ সালে (সার্টিফিকেট ১৯৪৪) বাবার চাকুরীস্তল পাবনায় জন্ম। বাড়ী চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে। শিক্ষা –দীক্ষায় উন্নত হওয়ার কারনে ব্রিটিশ আমলেই এ গ্রামটি ব্যাপক ভাবে পরিচিতি লাভ করেছিল। বাবা জ্যোতির্ময় বড়ুয়া দু’জনেই প্রাগ্রসর চিন্তার মানুষ ছিলেন। সত্যব্রত’র লেখক হওয়ার ইচ্ছে ছেলেবেলা থেকেই ছিল। বাবা-মা ও তাই চাইতেন। তাঁরা লেখক হওয়ার জন্যে ছেলেকে সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। কিশোর ও তরুণ বয়সে প্রচুর কবিতা লিখেছেন সত্যবত। তাঁর কিছু কবিতা একসময় জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। চাকুরী জীবনে তিনি লেখালেখির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারলেও তাঁর সাহিত্য চর্চা অবহ্যাত ছিল। সত্যব্রত বড়ুয়া বই প্রেমিক। দুষ্প্রাপ্য বই সংগ্রহের প্রতি তাঁর দুনির্বার আকর্ষন রয়েছে। অবসর জীবনে আবার লিখতে শুরু করেছেন। সত্যব্রত’র প্রথম বই ‘বাঁকা চোখে’ ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়। বইটই সুধিজনের দৃস্টি আকর্ষন করে। পরবর্তিতে ‘যদি সুন্দর একখানা মামা পাইতাম’ (২০০৯) এবং ‘রম্য সম্ভার’(২০১৩) নামের দু’টি রম্যবই প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকদের কাছে সবাদৃত হয়েছে বইগুলো। তিনি ‘দৈনিক আজাদী’ পত্রিকায় রম্য রচনা লিখে থাকেন। এরই মধ্য বিভিন্ন সংগঠন তাকে লেখালেখির জন্য সন্মাননা প্রদান করেছে।

বলাকা প্রকাশনঃ

‘ব্যাঙের সর্দি’ বইয়ের লেখক সত্যব্রত বড়ুয়া ইতিমধ্যে রম্য লেখক অর্থাৎ রম্য-রচনাকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।  ইংরেজি সাহিত্যে বেলে লেটার বলে একটি শব্দ রয়েছে বাংলা সাহিত্যের তার প্রতিশব্দ হিসেবে ‘রম্য রচনা’ কথাটি চল হয়েছে। কিন্তু এই শব্দ দু’টোর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে সুচারু পরিমার্জিত লঘু সাহিত্য। ইংরেজিতে বলতে হলে বলতে হবে- elegant literature specially applied to light literature। সুললিত ভঙ্গীতে হাল্কা মেজাজে যে সব লেখা- তাকেই বেলে লেটার (Belles Letters) বলা হয়। শব্দটি এসেছে ফরাসী ভাষা থেকে।

বাংলা সাহিত্যে রম্য রচনার বিভাগটি বেশ পুষ্ট। যে প্রবন্ধের রম্যতাই সর্বপ্রথম মনোহরন করবেÑ তাকেই বলা হয় রম্য রচনা! লেখার বিষয় যে রমণীয় হতে হবে এমন নয়, যে কোন বিষয়কেই রসিয়ে রচনা করা গেলে তাকে আমরা রম্য রচনা বলতে পারি। যে কোন বিষয়কেই রসিয়ে চারুত্বমাখা রমণীয়তা দান করলেই হলো। লেখক নিজের মনের খেয়ালকে লঘু চিন্তাকে ললিত ভাষায় হালকাভাবে বর্ণনা করে ও পাঠকের মনেরহরণ করতে পারলে, তরল কল্পনা বিশ্বাসের সাহায্যেÑ তখনই তা রম্য রচনা বলে গন্য করা হয়।

ফরাসী সাহিত্যে Belles Letters কথাটি এক সময় ব্যবহৃত হতো বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক চিন্তাভাবনা সম্পন্ন কোন রচনা থেকে স্বতন্ত্র করে বোঝানোর জন্য। উনিশ শতক থেকে শব্দটি অর্থ বদলে হয় সুরম্য সুপাঠ্য নিবন্ধ ধরনের লেখা বা লঘু রচনা, সাহিত্যিকের হালকা মেজাজি লেখা।

বাংলা সাহিত্যেও উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে রম্যরচনা লেখা শুরু হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘লোক রহস্য’ এবং ‘কমলাকান্তের দপ্তর’Ñ এই গ্রন্থদ্বয়কে রম্য রচনা বলা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথও রম্যরচনা লিখেছেন। প্রমথ চৌধুরীর বীরবলী রচনা একটি বড় অংশ অবশ্যই ধ্র“পদী রম্য রচনার অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। সৈয়দ মুজতবা আলী ‘চাচা কাহিনী’ ইত্যাদি রম্যরচনাগুলি বাঙালি সাহিত্য পাঠকেরা কি কখনও ভুলতে পারবেন!

বাংলা সাহিত্যে প্রায় সব কবি সাহিত্যিকই কিছু না কিছু রম্য রচনা লিখেছেন। রবীন্দ্রোত্তর কালে জোতির্ময় রায়ের ‘দৃষ্টিকোণ’ গ্রন্থের দুটি খণ্ডেই প্রচুর সরস রম্য রচনা রয়েছে। বুদ্ধদেব বসু অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত প্রমুখের কিছু কিছু লেখা রম্য রচনার পর্যায়ে পড়ে। বাংলাদেশের সাহিত্যে আবুল মনসুর আহমদেরও কিছু রম্য রচনা রয়েছে। তাঁর বেশ কয়েকটি গল্প উৎকৃষ্ট ধরনের রমণীয়তা, রস-রসিকতার সঙ্গে পরিবেশিত হয়েছে। বন্ধুবর সত্যব্রত বড়–য়ার রম্য রচনাগুলোও বাংলাদেশের রম্য রচনার ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে বলে আমরা দাবি করতে পারি। এই দাবির সপক্ষে আমরা তুলে ধরতে পারি তাঁর প্রকাশিত ‘ব্যাঙের সর্দি’ নামাংকিত গ্রন্থটি।

রম্যরচনার বিশেষত্ব লঘু ও হালকা মেজাজের হলেও সেখানে ‘Wit’ ‘উইট্’ বা বৈদগ্ধ্যপূর্ণ হাস্যরসাত্মক মার্জিত বাকচাতুর্য যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে ‘Humour’ হিউমার বা নির্মল ও নির্দোষ হাস্যরস। ‘ব্যাঙের সর্দির’ রচনাগুলি উইট ও হিউমারের অপূর্ব সংমিশ্রণ। খুবই সাবলীল ভাষায় তিনি প্রতিটি লেখা লিখেছেন। তবে তার মধ্যেও রয়েছে অনুপম বাক চাতুর্য। এক একটি শব্দকে নিয়ে তিনি যে খেলা খেলেছেন তাতে বোঝা যায় তিনি সুরসিক। ‘ব্যাঙের সর্দি’র প্রতিটি রচনাই এতটা মনোগ্রাহী যে পাঠক একটি রচনা পড়লে গ্রন্থের অন্যান্য রচনাগুলো না পড়ে পারেন না। একটি শব্দ নিয়ে তিনি এমন যাদুকরী খেলা খেলেন যাতে পাঠক শুধু মনে মনে হাসেন না, বিভিন্ন বিষয় একাধিক তথ্য জেনে যান আর তাতে তাঁদের তথ্য ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ হয়।

আমরা আলাপ-সালাপে অনেক সময় বলে থাকি দুনিয়াটা বদলে যাচ্ছে। কথাটি অসত্য নয়। ব্যাশনে, ফ্যাসানে, ফ্রিকশানেÑ সবখানেই বদল। ডেভেলপিং নামে এধরনের ব্যবসা বেরিয়েছে যাতে আমরা দেখি পথ দিয়ে যেতে তিন বছর আগে যেখানে ছিল সামনে সুন্দর বাগান ওয়ালা দোতালা দালান সেখানে ইদানিং দেখি দশতলা বারতলার বহুতল ভবন। মানুষের আচারে-বিচারে, চাল-চলনেও দেখি দিন বদলের ছাপ।

রম্য লেখক সত্যবাবু আজকের দুনিয়ার নানা বদলও দেখেছেন এবং এই দেখা তিনি তাঁর ‘দিন বদল’ রচনাটিতে লিখেছেন। তাঁর ভাষার মাধুর্য এ গ্রন্থের প্রতিটি রচনাকে স্বাদু ও উপভোগ্য করে তুলেছে।

সাম্প্রতিককালে আমাদের জীবন ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। আমরা যেন ক্রমেই হাসতে ভুলে যাচ্ছি। এমনতর অবস্থায় ‘ব্যাঙের সর্দি’ আমাদের মুহূর্তের জন্য হলেও হাসায়, আনন্দ দেয়। পাঠকেরাও বইটি পড়ে প্রচুর আনন্দ পাবেন। আমি বইটির বহুল প্রচার কামনা করি।

অরুণ দাশগুপ্ত

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “ব্যাঙের সর্দি”

Your email address will not be published. Required fields are marked *