প্রচেষ্টা

৳ 100

About The Author

অনিল কান্তি বড়ুয়া

অনিল কান্তি বড়ুয়া

লেখকের জীবন প্রসঙ্গ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১০নং পদুয়া ইউনিয়নের হারুয়ালছড়ি গ্রামের বিখ্যাত বনেদী পরিবার তারাচরণ মহাজন বাড়িতে।
জন্ম ১৯৪১ অক্টোবর ১০। বাবা: গকুল চাঁদ বড়–য়া, মা: শৈল বালা বড়–য়া। মা-বাবা উভয়েই বর্তমানে প্রয়াত। অনিলের এক ভাই ও বোন আছে। মা জীবিত থাকা অবস্থায় বোনের বিয়ে হয়ে গেছিল। বর্তমানে ভারতে আছে। অনিলের জন্মের ১০ দিন পর বাবা মারা গিয়েছিলেন।
৫/৬ বছর পর্যন্ত মা’ই তারা দুভাইকে লালন পালন করেছিলেন। হঠাৎ একদিনের অসুখে মা মারা যাওয়ায় তারা অনাথ ছেলের মত ছিল।
দাদু জীবিত ছিলেন। আইন অনুসারে পিতার আগে পুত্রের মৃত্যু ফল মৃত পুত্রের ছেলেরা কোন জায়গা-সম্পত্তির মালিক হতে পারে না। সেই জন্যে ওরা দুই ভাইয়ের নামে প্রায় ১ দোন ৪ কানি সম্পত্তি ১৫/০৯/১৯৪৪ ইং উইলনামা করে দেয়া হয়।
১৯৪৯ সালে শিলকে পিসীর বাড়িতে চলে আসেন দু’ভাই। পিসে মশাই অতুল চন্দ্র বড়–য়া ছিলেন শিলক স্কুলের করণিক। সে স্কুলে প্রাথমিক পর্ব থেকে লেখাপড়া শুরু।
ঐ স্কুল থেকেই ২য় বিভাগে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৬২ সালে। তারপর কানুনগোপাড়া কলেজ ভর্তি হয়ে ১৯৬৪ সালে আই কম পাশ করেন।
অতঃপর চট্টগ্রাম সিটি কলেজ বি.কম ক্লাসে ভর্তি হলেও থাকা-খাওয়ার অসুবিধার জন্য পুনরায় কানুনগো পাড়া কলেজে থেকে ১৯৬৬ সালে বি.কম পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে বৎসর উত্তীর্ণ হতে পারেননি। উত্তীর্ণ হন ১৯৬৭ সালের পরিক্ষায় এরপর শুরু হয় কর্মজীবনের সংগ্রাম।
চাকুরির আশায় চট্টগ্রাম শহরে এসে কোন আত্মীয়-স্বজন না থাকায় হোটেলে থাকতে হয়। অনেকদিন পর খলিল ভ্যালি এন্ড কোম্পানীতে চাকুরি পান। কিছুদিন পর হঠাৎ আগ্রাবাদ হোটেলের গ্রুপ অব কোম্পানীর একই বিজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে সাক্ষাৎ প্রার্থী হলে সাক্ষাৎ করার জন্য আহ্বান পান। সেই সাক্ষাৎকারে একটা ভালো চাকুরি পান। ১৯৬৮ সাল থেকে একটানা ৩৯ বৎসর চাকুরির পর ২০০৭ সালে সেপ্টেম্বরে অবসর গ্রহণ করেন।
বিবাহিত জীবন শুরু হয় ২৪ মার্চ ১৯৭৪ সালে। বোয়ালখালী উপজেলার বৈদ্যপারা গ্রামের বাবু সুকোমল বড়–য়ার ও শ্রীমতী বাসন্তী বড়–য়া’র প্রথম মেয়ে স্মৃতিপ্রভা বড়–য়া তার স্ত্রী। তখন স্মৃতিপ্রভা পালিতে এম.এ অধ্যয়নরত। সে সময় শিলক স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তখন এম.এ পরিক্ষা দিতে পারেননি। ৯ বছর পর ১৯৮১ সালে শহরে সস্ত্রীক চলে আসেন।
১৯৮১-৮২ শিক্ষাবর্ষে স্ত্রী বি.এড করার পরেই এম. এ পরিক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে এম.এ (পালি) ডিগ্রী প্রাপ্ত হন।
অতঃপর শিলক শাহ্ আলম চৌধুরী কলেজে অধ্যাপনায় নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ২৫ বৎসর পর বর্তমান অবসর জীবনে আছেন।
অনিলের দু ছেলে দু মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত। সবারই বিবাহকর্ম সম্পন্ন হয়েছে।
অনিলের সফল জীবনে ৯০ সালে বাগমনিরাম ওয়ার্ড নং ১৫ মিউনিসিপ্যাল হোল্ডিং নং ১৪৬৮ ব্যাটারি গলিতে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। সবাই এখানে সুখি পরিবার হিসেবে একত্রে বসবাস করছেন।
অবসর জীবনে পার করায় তীর্থ ভ্রমণ করেছেন। বোধিবৃক্ষের নিচে শ্রামণ্যধর্মে প্রব্রজ্জিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব তীর্থ সম্পন্ন করেছেন। এ সময় মহামান্য দালাইলামাকে দেখার সৌভাগ্য হয়। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ১৮/২০ বার তামিলনাড়–তেও গিয়েছেন। মায়ানমার ও থাইল্যান্ড ভ্রমণও সম্পন্ন করেছেন। বর্তকরা গ্রন্থটি তার চিন্তাশীল জীবনের ফসল।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “প্রচেষ্টা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *