পার্বত্য চট্টগ্রামে ও চাকমা জাতি

ইতিহাস ও ঐতিহ্য সভ্যতার প্রামাণ্য দলিল। যেকোন জাতির গৌরবময় অগ্রযাত্রায় ইতিহাস অনন্য ক্রিয়াশীল ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিহাস-সমৃদ্ধ এমনই এক এলাকা চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপম আধার এ অঞ্চল। পাহাড়ের বুক চিরে সুনীল জলধারা আর অরণ্যের প্রাণছোঁয়া সবুজ এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। মানুষ ও পাহাড়ের সখ্যতায় হƒদয়নিংড়ানো সৌন্দর্য আর বিস্ময়কর প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের মেলবন্ধন ঘটেছে এখানে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের চিরকালীন অখণ্ড ভৌগোলিক অঞ্চল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এ অঞ্চল প্রতিবেশী রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু কখনো ভিন্ন দেশের অংশে পরিণত হয় নি, চিরকালই নামে চট্টগ্রাম এবং ভৌগোলিক পরিচয়ে বাংলার আদি অখণ্ড অঞ্চল হিসেবে ছিল এবং এখনও রয়েছে। অতীতে এ অঞ্চলের শাসন কর্তৃত্ব পর পর বহু রাজশক্তির মাঝে হাতবদল হয়েছে। কিন্তু ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অতীত চট্টগ্রামের মতই আছে।

প্রাচীনকাল থেকে এর পশ্চিমাংশে সাগরঘেঁষা সমতল ভূমি ও পূর্বাংশে গভীর অরণ্যে আবৃত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নিয়েই ছিল চট্টগ্রাম ভূখণ্ড এবং চট্টগ্রামী বাঙালিদের বসবাস। এই ভূখণ্ডের পূর্বাংশ সেই অতীতকাল থেকেই হিংস্র প্রাণীকুলপূর্ণ এবং দুর্গম পার্বত্যাঞ্চল।  কুকি, চীন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ভুক্ত অল্প কিছু মানুষ এখানে যাযাবরীয় জীবন-যাপন করতো। তাদের বসবাস ছিল জুমিয়াসুলভ ভ্রাম্যমাণ। এ সম্প্রদায়গুলোর মূল আবাস পার্শ্ববর্তী  ত্রিপুরা, মিজোরাম ও লুসাইপাহাড়। এ অঞ্চলসমূহ অবিচ্ছিন্ন বন ও পাহাড়ের সমষ্টি। ভ্রাম্যমাণ জুম কৃষির সুবাদে এবং রাষ্ট্রীয় সীমান্ত উন্মুক্ত থাকার কারণে তারা এপারে-ওপারে অবাধে বিচরণ করতো। ছিল মুক্ত, নিজেদের সর্দার ছাড়া কোনো রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাদের ওপর। নিজেদের বিচরণক্ষেত্রকে তারা মুক্তাঞ্চল ভাবতো, অসমীয় ভাষায় কথা বলতো এবং ‘লং’ শব্দটি ব্যবহার করতো বেশি। এর একটি স্পষ্ট প্রভাবও আমরা এ অঞ্চলে দেখতে পাই। এর প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায়, এখানকার বেশকিছু নদীর নামের সাথে ‘লং’ শব্দের ব্যবহার রয়েছে। যেমন কাচালং, মাসালং, আসালং, কুহলং ইত্যাদি। ধারণা করা হয়, চট্টগ্রামের উত্তরে মিজোরামকে কেন্দ্র করে লং-যুক্ত নদীর নামগুলো আবর্তিত হয়েছে।

৳ 250

About The Author

জামাল উদ্দিন

জামাল উদ্দিন

ইতিহাসের কিছু হীরক্ষন্ডকে উপহার দিয়েছেন। দুই পর্বে তাঁর প্রনীত দেয়াং পরগনার ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি আমাদের অতিহ্যের সম্পর্কসূত্র বহু সুদূরের। তিনি দ্বিতীয় খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত দেয়াঙয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন পন্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রথম সনাক্ত করেন।
জামাল উদ্দিন পেশায় সাংবাদিক। জন্ম ৮মে ১৯৫৯। চট্টগ্রাম জেলা আনোয়ারা থানার শিলাইগড়া গ্রামে। ৬৯-৭০ সালে কৈশোর জীবন থেকে ঘনিষ্ঠভাবে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি তাঁর আকর্ষন। জামাল উদ্দিন ৭৫’-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরবর্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। সেই কৈশোরকাল থেকে একই সাথে তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্র অ সাময়িকীতে গবেষনামূলক লেখালেখি শুরু করেন। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতাকে বেঁচে নিয়েছেন ১৯৮০ সাল থেকে । জাতীয় দৈনিক বাংলা বানী। চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক সেবক-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবনের শুরু। পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক রুপালী , দৈনিক খবর ও দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সটাফ রিপোর্টার ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ পদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা জীবন অতিবাহিত করেছেন।

বলাকা প্রকাশনঃ

ইতিহাস ও ঐতিহ্য সভ্যতার প্রামাণ্য দলিল। যেকোন জাতির গৌরবময় অগ্রযাত্রায় ইতিহাস অনন্য ক্রিয়াশীল ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিহাস-সমৃদ্ধ এমনই এক এলাকা চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপম আধার এ অঞ্চল। পাহাড়ের বুক চিরে সুনীল জলধারা আর অরণ্যের প্রাণছোঁয়া সবুজ এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। মানুষ ও পাহাড়ের সখ্যতায় হƒদয়নিংড়ানো সৌন্দর্য আর বিস্ময়কর প্রাকৃতিক প্রাচুর্যের মেলবন্ধন ঘটেছে এখানে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের চিরকালীন অখণ্ড ভৌগোলিক অঞ্চল। অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এ অঞ্চল প্রতিবেশী রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু কখনো ভিন্ন দেশের অংশে পরিণত হয় নি, চিরকালই নামে চট্টগ্রাম এবং ভৌগোলিক পরিচয়ে বাংলার আদি অখণ্ড অঞ্চল হিসেবে ছিল এবং এখনও রয়েছে। অতীতে এ অঞ্চলের শাসন কর্তৃত্ব পর পর বহু রাজশক্তির মাঝে হাতবদল হয়েছে। কিন্তু ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অতীত চট্টগ্রামের মতই আছে।

প্রাচীনকাল থেকে এর পশ্চিমাংশে সাগরঘেঁষা সমতল ভূমি ও পূর্বাংশে গভীর অরণ্যে আবৃত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নিয়েই ছিল চট্টগ্রাম ভূখণ্ড এবং চট্টগ্রামী বাঙালিদের বসবাস। এই ভূখণ্ডের পূর্বাংশ সেই অতীতকাল থেকেই হিংস্র প্রাণীকুলপূর্ণ এবং দুর্গম পার্বত্যাঞ্চল।  কুকি, চীন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ভুক্ত অল্প কিছু মানুষ এখানে যাযাবরীয় জীবন-যাপন করতো। তাদের বসবাস ছিল জুমিয়াসুলভ ভ্রাম্যমাণ। এ সম্প্রদায়গুলোর মূল আবাস পার্শ্ববর্তী  ত্রিপুরা, মিজোরাম ও লুসাইপাহাড়। এ অঞ্চলসমূহ অবিচ্ছিন্ন বন ও পাহাড়ের সমষ্টি। ভ্রাম্যমাণ জুম কৃষির সুবাদে এবং রাষ্ট্রীয় সীমান্ত উন্মুক্ত থাকার কারণে তারা এপারে-ওপারে অবাধে বিচরণ করতো। ছিল মুক্ত, নিজেদের সর্দার ছাড়া কোনো রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাদের ওপর। নিজেদের বিচরণক্ষেত্রকে তারা মুক্তাঞ্চল ভাবতো, অসমীয় ভাষায় কথা বলতো এবং ‘লং’ শব্দটি ব্যবহার করতো বেশি। এর একটি স্পষ্ট প্রভাবও আমরা এ অঞ্চলে দেখতে পাই। এর প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায়, এখানকার বেশকিছু নদীর নামের সাথে ‘লং’ শব্দের ব্যবহার রয়েছে। যেমন কাচালং, মাসালং, আসালং, কুহলং ইত্যাদি। ধারণা করা হয়, চট্টগ্রামের উত্তরে মিজোরামকে কেন্দ্র করে লং-যুক্ত নদীর নামগুলো আবর্তিত হয়েছে।

কুকি-চীন ভাষাভাষীদের পরে এ অঞ্চলের উত্তরাংশে সম্ভবত উত্তর দিক থেকে আসে বরো (ইড়ফড়) ভাষাভাষী ত্রিপুরাদের রিয়াং জনগোষ্ঠীর লোকেরা। রিয়াংরা পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যভাগেও ত্রিপুরা রাজা রতœমাণিক্যের সময় (১৪৬৪ খ্রি.) পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তরাংশে মাইয়ুনী নদীর উপত্যকায় বসবাস করছিল বলে জানা যায়। একই সময়ে আসামের মিজোরাম থেকে কুকি নামক এক যাযাবর গোষ্ঠী দলবদ্ধ হয়ে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ করত এবং কিছুদিন বিচরণের পর তারা পুনরায় মিজোরামে ফিরে যেত।  তখন চট্টগ্রামের অরণ্য অঞ্চলে কারো স্থায়ী বসবাস ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র চট্টগ্রামীরা পাহাড়ী সম্পদ আহরণের জন্য কর্ণফুলী ও শঙ্খনদীপথে গভীর অরণ্যে প্রবেশ করত দলবদ্ধভাবে। নদীর দু’তীরের কোন কোন এলাকায় ব্যবসায়িক কারণে চট্টগ্রামী ব্যবসায়ীরা সম্পদ আহরণ ও বেচাবিক্রির জন্য কাঁচাঘর নির্মাণ করে কিছু সময় অবস্থান করতেন। বর্ষাকাল শুরু হলে তারা পুনরায় সমতলে ফিরে আসত।

ুচাকমাও তঞ্চঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে আগমন কাল বেশি দিনের নয়।  বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে চাকমারা নদী পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার জেলার রামুতে আশ্রয় নিয়েছিল তার ঐতিহাসিক প্রমাণ বর্তমান কক্সবাজার জেলার রামুর চাকমারকুল নামক স্থানটি। এখানেই ১৬ ৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৫৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে তাদের প্রথম দলটির আগমন ঘটে। এ সংক্রান্ত তথ্যাবলী আকানের রাজোয়াং গ্রন্থে স্পষ্টই উল্লেখ আছে। তারপরবর্তীতে অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইংরেজ শাসনামলে  বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে বিপুল সংখ্যক চাকমা চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে প্রবেশ করে।

মোগল শাসনামলের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায়, ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার শাহ সুজা যখন তার বিশাল মোগলবাহিনী নিয়ে আরাকানের রাজধানীতে চলে যান, তার কিছু সময় পূর্বে আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে নাফ নদী পার হয়ে বর্তমান কক্সবাজারের রামুর তৈনছড়ি নদীর  তীরে অবস্থান নেন। বিতাড়িত চাকমারা নানা কারণে ঐ স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছিল।  (চাকমাদের প্রথম অবস্থানের কারণে পরবর্তীতে ঐ এলাকার নামকরণ হয়ে যায় চাকমার কুল) উদ্বাস্তু ঐ চাকমা শরণার্থীদের সাথে এক পর্যায়ে ভাগ্যাহত একদল মোগল যোদ্ধার সংস্রব ঘটে। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলার সুবেদার নবাব শাহজাদা সুজা পিতৃঐতিহ্য দিল্লীর সিংহাসন দখলে ব্যর্থ হয়ে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন আরাকানের প্রদেশশহর চট্টগ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর সাথে ছিল বিশাল মোগল বাহিনী। তিনি নিকট আত্মীয় ও কিছু সংখ্যক গার্ড রেজিমেন্ট নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে আরাকানের রাজধানীতে চলে গেলেও  অনুগত বিশাল বাহিনী রামুতেই দুর্গ স্থাপন করেছিলেন।

আরাকানের রাজধানীতে  আশ্রয়ের ৬ মাসের মধ্যে সপরিবারে শাহ সুজার নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে রামুতে অবস্থানরত মোগলযোদ্ধাদের সাথে আরাকানী সৈনিকদের যুদ্ধ বেধেযায়। ফলে এই প্রতিকুল পরিস্থিতির কারণে  তারা রামু ত্যাগ করে প্রায় ৬০ মাইল পূর্বে গভীর অরণ্যে পুনরায় দুর্গ স্থাপন করেন। ইসলামের অন্যতম খলিফা হযরত আলীর নামানুসারে এই এলাকার নামকরণ করেন ‘আলীকদম’। তারা এখানে জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং বার্মা থেকে বিতাড়িত শরণার্থীরা ছিল তাদের জুমিয়া প্রজা। ধারণা করা হয়, এমনই এক পর্যায়ে নারীবিহীন মোগল যোদ্ধাদের একটি অংশ উপজাতীয় নারীদের সাথে প্রণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। জুমিয়া প্রজারা তাদেরকে ‘রাজা’ নামেই সম্বোধন ও মান্য করত। এভাবেই মোগলযোদ্ধারা হয়ে যান পার্বত্য চট্টগ্রামের জুমিয়া চাকমাদের রাজা।

বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে আপন পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁকে প্রধান সেনাপতি মনোনীত করে আরাকান অভিযানে প্রেরণ করেন। উমেদ খাঁ ২৭ জানুয়ারি  চট্টগ্রাম দখল করে নেন। চট্টগ্রাম বিজয়ের এই যুদ্ধে আলীকদমে আশ্রিত মোগলযোদ্ধারাও অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের বিপরীতমুখি আক্রমণে  মাত্র ১২ দিনের মধ্যে উমেদ খাঁ দক্ষিণে রামু পর্যন্ত দখল করতে সক্ষম হন। চট্টগ্রাম বিজয়ের পর বুজুর্গ উমেদ খাঁ নববিজিত চট্টগ্রামের শাসকপদে অধিষ্ঠিত হন। তাঁরই আনুগত্য স্বীকার করে আলীকদমে অবস্থানরত মোগলযোদ্ধারা ‘কার্পাস’ করের বিনিময়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে জমিদারী প্রতিষ্ঠা করে বসবাস শুরু করেন। এমনই সময়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাগ্যাহত এই মোগলযোদ্ধাদের অনেক পরিবার পরিজন চলে আসে এই পার্বত্য অঞ্চলে।

১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খাঁ এ প্রদেশের রাজস্ব সংগঠনকে পুনর্গঠন করেন। তখন বৃহত্তর চট্টগ্রাম (পার্বত্য অঞ্চলসহ) অঞ্চলটি ইসলামাবাদ চাকলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই থেকে তাঁরা চট্টগ্রামের নবাবের সাথে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন, লবণ, গুড়, তামাক, শুটকি, মুরগি, কালো কাপড় ইত্যাদি তাঁদের কাছে পৌঁছে দেবেন। ঐসব দ্রব্য জুমিয়া প্রজাদের মধ্যে বিতরণ করে তার বিনিময়ে ব্যবসায়ীরা কার্পাস তুলা আদায় করতেন। এই খাতে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জুমিয়াদের মাঝে নগদ অর্থও বিতরণ করা হয়। সরকারি রাজস্বের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা লগ্নিকৃত টাকায় পাওয়া কার্পাসও সরকারি গুদামে জমা দিতেন। ধারণা করা হয় যে, তাদের প্রথম সর্দার ফতে খাঁ’ই এই চুক্তি করেছিলেন।

বাংলার সুবেদার মুরশিদকুলী খাঁ’র শাসানামলে ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে ‘সুবেবাংলার কামেল তুমারী ’ নামক  এক আদেশনামা জারি করেন। পরবর্তী বাংলার সুবেদার শাহ সুজা খাঁ ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে এই আদেশ অনুমোদন করেন। উক্ত আদেশে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল রাঙ্গামাটি সীমান্ত রক্ষায় ১৫৭৮ জন সৈন্য পোষণের জন্য ৬৩০১৫ টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ আছে।

 

 

উল্লেখ্য যে, উমেদ খাঁ কর্তৃক চট্টগ্রাম বিজয়ের পর থেকে  আলীকদমে  শাহ সুজার সাথে আগত সেনাপতি পদমর্যাদার বেশ কয়জন ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে জমিদারীর দায়িত্ব পালন এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী  চট্টগ্রামের নবাবকে কার্পাস কর প্রদান করেছিলেন। কিন্তু  ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে জালাল খাঁর সর্দারী আমলে ঘটে তার ব্যতিক্রম। তিনি পূর্বের চুক্তি অমান্য করে  চট্টগ্রামের নবাবের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। নবাব তাতে ক্রোধান্বিত হয়ে জালাল খাঁর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। ঐ অভিযানে দোহাজারী দুর্গের সেনাপতি কিষানচাঁদ ও জামাল খাঁ’কে ‘আলীকদমে’ অভিযানের নির্দেশ দেন। এই অভিযানে আলীকদমস্থ জালাল খাঁর দুর্গ সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। জালাল খাঁ পালিয়ে আরাকানে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি মগদের সাথে অপর এক সংঘাতে জড়িয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হন। তাঁর অন্যান্য সহযোদ্ধারা গভীর অরণ্যে  চলে যায়।

উপরোক্ত ঘটনার ১৩ বছর পর শেরমস্ত খাঁ পুনরায় চট্টগ্রামের নবাবের শরণাপন্ন হন। ১৭৩৭ খ্রিস্টাব্দে শেরমস্ত খাঁ চট্টগ্রামের মোগল শাসকের সাথে পুনরায় এক চুক্তি করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের পার্বত্যাঞ্চলের পদুয়া-কোদালার বন্দোবস্তি লাভ করেন এবং সেখানে খামারবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। এই সুযোগে তিনি আলীকদমের যুদ্ধে হেরে যাওয়া এক সময়ের সহযোদ্ধাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। অরণ্যে পালিয়ে থাকা এসব মোগল যোদ্ধাদের নিয়ে আসেন পদুয়া-কোদালায়। তাদের পিছু পিছু বিপুল সংখ্যক জুমিয়া চাকমা প্রজাও একিভূত হয়ে যায় এই খামারে। চাকমা জুমিয়াদের চাষাবাদে নিয়োজিত করে এখানে জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন শেরমস্ত খাঁ।  চাকমা জুমিয়ারা শেরমস্ত খাঁকে রাজা হিসেবে মান্য করত। অর্থাৎ তিনিই হয়ে যান জুমিয়া চাকমাদের রাজা। শেরমস্ত খাঁর পক্ষ হয়ে পদুয়া-কোদালার জমিদারীর দায়িত্ব পালন করতেন তাঁরই পোষ্যপুত্র শুকদেব রায়। উক্ত খামারে জুমিয়া চাকমা-মগ ও অন্যান্য উপজাতির পাশাপাশি চট্টগ্রামী বাঙালিরা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বাঙালিদের বসবাসস্থলটি আজও বাঙালহালিয়া নামে পরিচিত।

কোনো রাজকীয় শক্তির অধিকারী না হয়েও শেরমস্ত খাঁ বিশাল এই জমিদারী পরিচালনা করতেন তাঁরই মোগল বংশীয় রাজদরবার পরিচালনার অনুকরণে। তিনি প্রজাদের অনেককেই  মোগলীয় প্রথা অনুযায়ী ‘দেওয়ান’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।

১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে নবাব মীর কাসিমের কাছ থেকে ইংরেজরা চট্টগ্রামের শাসনভার অর্জন করে। ক্ষমতা লাভের পর ইংরেজরা চট্টগ্রামের পার্বত্যাঞ্চলে রাজা নামের ২ জন জমিদারকে  রাজস্ব আদায়ের স্বীকৃতি দেয়। তাদের একজন চাকমা রাজা শের জব্বার খাঁ (১৭৫৮-১৭৬৫ খ্রি.) ও পোয়াং রাজা (বোমাং রাজা)। কিন্তু ইংরেজ শাসনের প্রারম্ভেই শের জব্বার খাঁ মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর শের দৌলত খাঁ (১৭৬৫-১৭৮২ খ্রি) জমিদারীর দায়িত্ব লাভ করেন। ইংরেজরা মোগল শাসকদের চেয়ে অতিমাত্রায় কার্পাস কর বৃদ্ধি করলে শের দৌলত খাঁ ১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইংরেজদের কর প্রদান বন্ধ করে দেন। ঐ বছরই তাঁর জামাতা তথা সেনাপতি রণু খাঁ’র সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ শুরু হয়। ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে শের দৌলত খাঁ মৃত্যুবরণ করলে তাঁরই পুত্র জানবক্স খাঁ জমিদারী লাভ করেন। এ সময় ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি দক্ষতার সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে পেরে উঠেন নি। জানবক্স খাঁ ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় গিয়ে তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। উক্ত ঘটনার পর জানবক্স খাঁ’র জীবিতকাল (১৮০০ খ্রি.) পর্যন্ত ইংরেজদের সাথে আর কোন গোলযোগ হয় নি। তিনিও নির্বিঘেœ জমিদারী পরিচালনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র তব্বার খাঁ জমিদারী লাভ করেন। তব্বার খাঁ’র মুত্যুর পর তাঁরই ভাই জব্বার খাঁ জমিদারীর দায়িত্ব পালন করেন। জব্বার খাঁর মৃত্যুর পর জমিদারীর উত্তরাধিকার নিয়ে মোগল পরিবারে ব্যাপক গোলযোগ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে জমিদারীর উত্তরাধিকারী হয়ে যান জব্বার খাঁর শিশুপুত্র ধরমবক্স খাঁ ( ১৮১২-১৮৩২ খ্রি)।

ধরমবক্স খাঁর জমিদারীকালে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে আরাকানত্যাগী ফাপ্র“ নামক এক সর্দারের নেতৃত্বে প্রায় ৪ হাজার টুংটইংগা পার্বত্য চট্টগ্রামে চলে আসে। তিনিই  টুংটইংগাদেরকে পাহাড়ে জুম চাষে অনুমতি প্রদান করে জুম চাষাবাদের সুযোগ করে দেন। ধরমবক্স খাঁ কালিন্দী নামক এক জুমিয়া চাকমা  রমণীকে বিয়ে করেন।  মাত্র ২০ বছর বয়সে  ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ধরমবক্স খাঁ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর মৃত্যুর পর জমিদারী পরিচালনাকে কেন্দ্র করে স্বগোত্রীয়রা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। স্বামীর  উত্তরাধিকারী দাবী করে রানী কালিন্দী  চট্টগ্রামের প্রথম ইংরেজ আদালতে আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। প্রতিপক্ষ ছিলেন ধরমবক্স খাঁ’র স্বগোত্রীয় মোগল বংশের সদস্যরা। দীর্ঘ ১২ বছর আইনী লড়াইয়ের পর আদালতের রায়ে কালিন্দী রানী জমিদারীর উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত হন। উক্ত রায়ের বলে  জমিদারীর কর্তৃত্ব চলে যায় রানী কালিন্দীর হাতে। এদিকে রানী কালিন্দী আনুষ্ঠানিকভাবে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করলে তাঁরই নেতৃত্বে জুমিয়া চাকমারাও হয়ে যায় বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। এ প্রসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা গেজেটিয়ারে স্পষ্টই উল্লেখ আছে। মূলত কালিন্দীর পর থেকে বর্তমান চাকমা রাজবংশ বা সার্কেল প্রধানের সূত্রপাত হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে।

রানী কালিন্দীর মৃত্যুর পর পার্বত্য চট্টগ্রামের জমিদারীর কর্তৃত্ব চলে যায় তারই দৌহিত্র হরিশচন্দ্রের হাতে। ধর্মীয় পরিবর্তনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও হরিশচন্দ্র থেকে পরবর্তী রাজ বংশীয়রাও উত্তরাধিকারে মোগল বংশজাত। তাঁরা প্রথম রাজা শেরমস্ত খাঁর অতীত ঐতিহ্য তথা মোগলীয় প্রথাকে লালন করেই  জমিদারী কার্যাদি পরিচালনা করতেন যা আজও অব্যাহত আছে এবং পূর্বের মতই সাধারণ চাকমারা তাঁদের রাজা বলেই মান্য করে আসছে। ব্রিটিশ সরকারের এক আদেশে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে হরিশচন্দ্র রাঙ্গুনিয়াস্থ রাজানগর ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি দলবল নিয়ে নতুনভাবে জমিদারী স্থাপন করেন রাঙ্গামাটিতে। বলতে গেলে রাঙ্গামাটি থেকেই হরিশচন্দ্রের হাত ধরে বর্তমান চাকমা রাজবংশের সূত্রপাত।

এদিকে বর্মী সৈন্যরা আরাকানে ব্যাপকহারে গণহত্যা সংঘটিত করলে সেখানকার যুদ্ধপীড়িত চাকমা ও মগ শরণার্থীরা দলে দলে চট্টগ্রামের কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের দিকে পালিয়ে আসে। তারা আশ্রয় নেয় চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে। এখানে তাদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে যায়। আরাকানত্যাগী এসব শরণার্থীর কারণে পার্বত্য অঞ্চলে চট্টগ্রামী বাঙালিরা হয়ে যায় সংখ্যালঘু। অর্থাৎ চট্টগ্রামেই চট্টগ্রামী বিরল আরেক জনপদ সৃষ্টি হয়। ১৭৯৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিন বছরেই শুধু আরাকান থেকে এদিকে পালিয়ে আসা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে চাকমাসহ ১৩টি জনগোষ্ঠীর বাস। এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলায় সাঁওতাল ও রাঙ্গামাটি জেলায় গুর্খাদের বসবাস করতে দেখা যায়, যদিও তাদের কোন পৃথক শুমারি নেই। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিকটবর্তী দেশ থেকে আগত ত্রিপুরা ও মগ বা মারমা জনগোষ্ঠী ব্যতীত অন্য কোনটিরই সুনির্দিষ্ট ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু তৎমধ্যে চাকমা জনগোষ্ঠীই হল সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ, দ্বিতীয় মগ বা মারমা, তৃতীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী।

চট্টগ্রামে চাকমাজাতির আগমন ও বি¯তৃতি সম্পর্কে অনেক তথ্য-উপাত্ত এখন আমার হাতে আছে। তারপরও যুক্তিসঙ্গত ও সর্বজনগ্রাহ্য ইতিহাস গ্রন্থ প্রণয়ন করাও দুরূহ কাজ বলে আমি মনে করি। তার কারণ ইতোপূর্বে ‘চাকমাজাতির ইতিহাস’ নামক একাধিক খণ্ডিত গ্রন্থ প্রণীত হয়েছে। এসব গ্রন্থ নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। স্বয়ং চাকমা জাতির লেখক অশোক কুমার দেওয়ান তাঁর ‘চাকমা জাতির ইতিহাস বিচার’ গ্রন্থে বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস রচনায় তাঁদের প্রয়াস অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। বলে রাখা উচিৎ যে, পূর্ববর্তী ইতিবৃত্তকারগণ কর্তৃক প্রদত্ত বিবরণগুলোর যাচাই-বাছাই ও সম্প্রতি প্রাপ্ত দুর্লভ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একটি ছাঁচে ঢালা ইতিহাসগ্রন্থ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এ গ্রন্থ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি।

এই ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে  আমি রাঙ্গুনিয়ার মোগলবাড়িতে রক্ষিত রানী কালিন্দী থেকে ব্রিটিশ শাসনের সমাপ্তিকাল পর্যন্ত উভয় পক্ষের মামলা-মোকদ্দমার অনেক ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিলপত্রাদিও সংগ্রহ করেছি। এসব দলিল-পত্রের সূত্র ধরেই পেতে চেষ্টা করেছি চাকমাজাতির প্রকৃত ইতিহাসের সন্ধান। আমি ইতোপূর্বে  অর্থাৎ ২০১১ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস’ নামক একটি গ্রন্থ পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। দীর্ঘ নয় বছরের শ্রমের ফসল আমার এই গ্রন্থটিতে চট্টগ্রামে চাকমাজাতি সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করেছিলাম। যা ইতিপূর্বে কোন লেখকের গ্রন্থে সন্নিবদ্ধ ছিল না। এসব নতুন তথ্যের আলোকে গ্রন্থটি ২০১১ সালে প্রকাশের পর থেকে সরকারি-বেসরকারিভাবে ইতিমধ্যে প্রায় চার হাজার কপি পাঠকের হাতে পৌঁছে গেছে। গ্রন্থটি প্রকাশের পর আমি আশা করেছিলাম লেখক কিংবা গবেষকদের কারো হাতে চাকমাজাতি সম্পর্কে ভিন্ন কোনো তথ্য-উপাত্ত থেকে থাকলে তা নিয়ে তাঁরা সমালোচনামূলক কিছু লিখবেন এবং এ ধরণের সমালোচনার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু এ পর্যন্ত কেউই দ্বিমত পোষণ করেন নি, বরং গ্রন্থটি প্রকাশের পর থেকে বহু পাঠকের পক্ষ থেকে ‘চাকমাজাতি’ সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার অনুরোধ পেয়ে আসছি।

তাই সম্মানিত পাঠকেসমাজের অনুরোধের আলোকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চাকমাজাতি’ নামক এ গ্রন্থটি পাঠকের হাতে তুলে দিতে পেরে স্বস্তিবোধ করছি। আশা করি গ্রন্থটি পাঠে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমাজাতি যে ভূমিপুত্র নয় এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে এবং তারা যে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ হতে বার্মা থেকে চট্টগ্রামে আগত অভিবাসী এ সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে  উল্লেখিত বিষয়গুলোর পরিচয় বইয়ের নামেই নিহিত। সবকিছুই প্রাচীন দলিলপত্র ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। বিষয়বস্তুতে মিল আর লেখকের বক্তব্যে ঐক্য রয়েছে বলে কোন কোন বিষয়ে পুনরাবৃত্তি-দোষ যে ঘটে নি তা নয়। অনিবার্য কারণে তা এড়ানো সম্ভব হয় নি।

জামাল উদ্দিন

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “পার্বত্য চট্টগ্রামে ও চাকমা জাতি”

Your email address will not be published. Required fields are marked *