পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানকার প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র্যের সাথে সাথে অধিবাসীদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির মধ্যেও রয়েছে নানাপ্রকারের বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য কবি-সাহিত্যিকদের যেমন আকৃষ্ট করে তেমনি অনুসন্ধিৎসু ও গবেষকদেরও আকৃষ্ট করে। আলোচ্য গ্রন্থের লেখক  জামাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জীবনধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

বিভিন্ন দিক দিয়ে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। চট্টগ্রাম জেলাতে রয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সামুদ্রিক বন্দর যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ঘটেছে। কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। পার্বত্য চট্টগ্রাম নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বাংলাদেশে অতুলনীয়। এছাড়া, রয়েছে জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য, ভাষা-বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এ সমস্ত কিছুই দেশী-বিদেশী পর্যটক, লেখক, গবেষকদের আকৃষ্ট করে। এঁদের অনেকেরই রচনা জামাল উদ্দিন তাঁর গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

গ্রন্থটির আলোচ্য বিষয়ের কালক্রম প্রাচীন যুগ থেকে একেবারে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত বি¯তৃত। এই দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস আলোচনা যে কত কঠিন ব্যাপার তা গ্রন্থটি পড়লেই বোঝা যাবে। এই সুদীর্ঘকালের ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে তিনি প্রচুর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের নিয়ে ইতিহাস রচনা করা সহজ কাজ নয়। এর প্রধান কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ অধিবাসীরা স্থায়ীভাবে কোথাও বসবাস করে না। তাছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীরা বহু জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত। এত স্বল্প পরিমিত স্থানে এত অধিক সংখ্যক জনগোষ্ঠীর বসবাস উপমহাদেশের অন্য কোথাও বিশেষ দেখা যায় না। বিষয়টা প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন ড. ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিল্টন। এই বিখ্যাত পণ্ডিত পরিব্রাজক অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে অশেষ পরিশ্রম করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় সম¯ — অঞ্চল পরিভ্রমণ করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের নৃ-তত্ত্ব ও জীবনযাত্রা সম্বন্ধে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকেরা Ñ ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টার, পিয়ের বেসেইগনেট প্রমুখ বিদগ্ধ ব্যক্তিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্বন্ধে প্রচুর লিখেছেন। তাঁদের বিবরণসমূহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আলোচনার পক্ষে অপরিহার্য।

৳ 600

About The Author

জামাল উদ্দিন

জামাল উদ্দিন

ইতিহাসের কিছু হীরক্ষন্ডকে উপহার দিয়েছেন। দুই পর্বে তাঁর প্রনীত দেয়াং পরগনার ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি আমাদের অতিহ্যের সম্পর্কসূত্র বহু সুদূরের। তিনি দ্বিতীয় খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত দেয়াঙয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন পন্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রথম সনাক্ত করেন।
জামাল উদ্দিন পেশায় সাংবাদিক। জন্ম ৮মে ১৯৫৯। চট্টগ্রাম জেলা আনোয়ারা থানার শিলাইগড়া গ্রামে। ৬৯-৭০ সালে কৈশোর জীবন থেকে ঘনিষ্ঠভাবে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি তাঁর আকর্ষন। জামাল উদ্দিন ৭৫’-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরবর্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। সেই কৈশোরকাল থেকে একই সাথে তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্র অ সাময়িকীতে গবেষনামূলক লেখালেখি শুরু করেন। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতাকে বেঁচে নিয়েছেন ১৯৮০ সাল থেকে । জাতীয় দৈনিক বাংলা বানী। চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক সেবক-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবনের শুরু। পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক রুপালী , দৈনিক খবর ও দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সটাফ রিপোর্টার ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ পদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা জীবন অতিবাহিত করেছেন।

বলাকা প্রকাশনঃ

পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানকার প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র্যের সাথে সাথে অধিবাসীদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির মধ্যেও রয়েছে নানাপ্রকারের বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য কবি-সাহিত্যিকদের যেমন আকৃষ্ট করে তেমনি অনুসন্ধিৎসু ও গবেষকদেরও আকৃষ্ট করে। আলোচ্য গ্রন্থের লেখক  জামাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জীবনধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

বিভিন্ন দিক দিয়ে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। চট্টগ্রাম জেলাতে রয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সামুদ্রিক বন্দর যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ঘটেছে। কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। পার্বত্য চট্টগ্রাম নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বাংলাদেশে অতুলনীয়। এছাড়া, রয়েছে জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য, ভাষা-বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এ সমস্ত কিছুই দেশী-বিদেশী পর্যটক, লেখক, গবেষকদের আকৃষ্ট করে। এঁদের অনেকেরই রচনা জামাল উদ্দিন তাঁর গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

গ্রন্থটির আলোচ্য বিষয়ের কালক্রম প্রাচীন যুগ থেকে একেবারে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত বি¯তৃত। এই দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস আলোচনা যে কত কঠিন ব্যাপার তা গ্রন্থটি পড়লেই বোঝা যাবে। এই সুদীর্ঘকালের ইতিহাস রচনা করতে গিয়ে তিনি প্রচুর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের নিয়ে ইতিহাস রচনা করা সহজ কাজ নয়। এর প্রধান কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ অধিবাসীরা স্থায়ীভাবে কোথাও বসবাস করে না। তাছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীরা বহু জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত। এত স্বল্প পরিমিত স্থানে এত অধিক সংখ্যক জনগোষ্ঠীর বসবাস উপমহাদেশের অন্য কোথাও বিশেষ দেখা যায় না। বিষয়টা প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন ড. ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিল্টন। এই বিখ্যাত পণ্ডিত পরিব্রাজক অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে অশেষ পরিশ্রম করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় সম¯ — অঞ্চল পরিভ্রমণ করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের নৃ-তত্ত্ব ও জীবনযাত্রা সম্বন্ধে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন। এরপর পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকেরা Ñ ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টার, পিয়ের বেসেইগনেট প্রমুখ বিদগ্ধ ব্যক্তিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবন সম্বন্ধে প্রচুর লিখেছেন। তাঁদের বিবরণসমূহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আলোচনার পক্ষে অপরিহার্য।

জনসংখ্যার দিক দিয়ে পার্বত্য জনগোষ্ঠীদের মধ্যে চাকমারাই প্রধান। সতীশ চন্দ্র ঘোষ তাঁর ‘চাকমা জাতি’ গ্রন্থে চাকমাদের সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। চাকমাদের ইতিহাস সম্বন্ধে জামাল উদ্দিন এমন সব তথ্য পরিবেশন করেছেন, যা ইতিপূর্বে  অন্য কেউ আলোচনা করেন নি। এ সমস্ত তথ্যের আলোকে চাকমাদের ইতিহাস উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে এবং জামাল উদ্দিন সাহেবের গ্রন্থের মূল্যও অনেকখানি বৃদ্ধি পাবে।

আলোচ্য গ্রন্থে জামাল উদ্দিন অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচ্য বিষয়সমূহের সংখ্যা গ্রন্থের সূচিপত্র দেখলেই বোঝা যাবে। বিষয়বস্তুর  আধিক্যের কারণ বিষয়বস্তুর বিভিন্নতা। জামাল উদ্দিন যা কিছু আলোচনার যোগ্য বিবেচনা করেছেন তার কোনটিই বাদ দেন নি। এর ফলে,  গ্রন্থটি যে বেশ মূল্যবান হয়ে উঠেছে তাতে সন্দেহ নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামের ইতিহাস প্রসঙ্গক্রমে আসতে পারে। এমনকি পার্শ্ববর্তী আরাকান, মিজোরাম, ত্রিপুরা রাজ্যের প্রসঙ্গও বাদ দেওয়া যায় না। এসব আলোচনা পাঠকের মনে ঔৎসুক্যের সঞ্চার করে।

প্রকৃতপক্ষে গ্রন্থটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আলোচ্য বিষয়ের বৈচিত্র্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্বন্ধীয়  এমন কোন বিষয় নেই, যা তিনি গ্রন্থটিতে আলোচনা করেন নি। আর, তা করতে গিয়ে তাঁকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আলোচ্য অনেক তথ্য-উপাত্ত এতদিন পর্যন্ত আমাদের নিকট অজ্ঞাত ছিল। জামাল উদ্দিন কেবলমাত্র এ সমস্ত তথ্য উদ্ধৃত করেন নি, এগুলির বিচার-বিশ্লেষণও করেছেন।

গ্রন্থকার জামাল উদ্দিন ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রণয়ন করে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন। আলোচ্য গ্রন্থখানি তিনি যথেষ্ট পরিশ্রম করে লিখেছেন। গ্রন্থখানির আলোচ্য বিষয় পাঠকের নূতন নূতন চিন্তাভাবনার জন্ম দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস। গ্রন্থখানি রচনা করতে গিয়ে গ্রন্থকার সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পরিভ্রমণ করেছেন, পার্বত্য জনগোষ্ঠীদের সাথে পরিচিত হয়ে তাদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়েছেন। গ্রন্থটি পাঠকদের নিকট যে  উপভোগ্য হবে এ বিষয়ে আমাদের কোন সন্দেহ নেই।

 

সুনীতিভূষণ কানুনগো
ইতিহাসবিদ ও গবেষক
অধ্যাপক (অব.) ইতিহাস বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস”

Your email address will not be published. Required fields are marked *