নৈশব্দের নীল স্বপ্নেরা

ভাব ও ভাষা- এ দুটো পাখা উড়িয়ে কবিতা নামের সাহিত্যভুবনের পাখিটা ঊড়ছে, উড়তে চায়। কিন্তু কেবল ভাব আর ভাষা থাকলেই কি ওড়া যায়! না, একটু উড়েই পড়ে যায়। পাখাগুলো এত পুষ্ট নয় বলে। পুষ্ট তখনই হয় যখন লাগে ছন্দের দোলা, শব্দে শব্দে অচ্ছেদ্য পরিণয়, মিলের সুব্যবহার আরও অনেক অলঙ্করণ। এভাবেই কবিতা হয় ঐশ্বর্যমন্ডিত। এসব কথা কবিতার পাঠক মাত্রই জানেন। আমার আবার নুতন করে মনে এলো গৌরী নন্দিতার ‘নৈশব্দের নীল স্বপ্নেরা’ শিরোনামাংকিত কবিতা গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি পড়ে।

গৌরী নন্দিতা বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে সম্ভবত নবাগতা। তিনি যদি আগে কোথাও কবিতা লিখেও থাকেন তা আমার পড়বার কিংবা দেখবার সৌভাগ্য হয় নি। তবে পাণ্ডুলিপি পড়ে মনে হল, তিনি কবিতার অন্তর্গত সত্তায় সদা বিচরণশীল। তা না হলে  তিনি কীভাবে রচনা করলেন

৳ 150

About The Author

গৌরি নন্দিতা

গৌরি নন্দিতা

জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সিলেটের মৌলভীবাজার জেলা পিতৃভূমি হলেও শৈশব , কৈশোরে বেড়ে ওঠা ঢাকায়। উইলস লিটল ফ্লাউয়ার স্কুলে প্রাথমিক ও ভিকারুননিসা নুন স্কুলে কেটেছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জীবনের কিছু অংশ। বাবার চাকরিতে বদলীর সুবাদে চট্টগ্রামে। ডাঃ খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি তে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ন হন। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ছিল কৃতিত্বপূর্ন। পরবর্তীতে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর । বীরকন্যা প্রীতিলতার স্মৃতিধন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত অপর্নাচরন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, গল্প, কবিতা লেখায় জড়িয়ে আছেন সমান্তরাল ভাবে। চট্টগ্রামের শুদ্ধ রবীন্দ্রসংগীত চর্চার সংগঠন রক্তকরবীর নিয়মিত সদস্য। বিভাস আবৃত্তি সংগঠনের অনুস্টান পরিচালনা ও অনুশীলন সম্পাদিকা। বাংলাদেশ গার্লস এসোসিয়েশন এর সদস্য এবং সক্রিয় গাইডার। প্রকৃতির প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসায় বার বার প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়া এবং এর সান্নিধ্যই কবিতা লেখার প্রধান প্রেরনা। কবিতায় প্রানের মিলন ও সমাপ্তির খোঁজা। কলেজ জীবনে কবিতার হাতেখড়ি। ২০০৫ সালে মা ও বাবার মৃত্যুর পর কবিতায় নতুন গতি। জীবনবোধ জন্ম দিয়েছে নতুন ভাব, শব্দের খেলা। তা দিয়ে অবিরাম গাঁথা চলে তাঁর প্রতিটি কবিতা, ছড়া, অনুকাব্য। ‘শিশির ভেজা মিষ্টি ভোড়’ এ ছদ্মনামেও পরিচিত।

বলাকা প্রকাশনঃ

ভাব ও ভাষা- এ দুটো পাখা উড়িয়ে কবিতা নামের সাহিত্যভুবনের পাখিটা ঊড়ছে, উড়তে চায়। কিন্তু কেবল ভাব আর ভাষা থাকলেই কি ওড়া যায়! না, একটু উড়েই পড়ে যায়। পাখাগুলো এত পুষ্ট নয় বলে। পুষ্ট তখনই হয় যখন লাগে ছন্দের দোলা, শব্দে শব্দে অচ্ছেদ্য পরিণয়, মিলের সুব্যবহার আরও অনেক অলঙ্করণ। এভাবেই কবিতা হয় ঐশ্বর্যমন্ডিত। এসব কথা কবিতার পাঠক মাত্রই জানেন। আমার আবার নুতন করে মনে এলো গৌরী নন্দিতার ‘নৈশব্দের নীল স্বপ্নেরা’ শিরোনামাংকিত কবিতা গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি পড়ে।

গৌরী নন্দিতা বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে সম্ভবত নবাগতা। তিনি যদি আগে কোথাও কবিতা লিখেও থাকেন তা আমার পড়বার কিংবা দেখবার সৌভাগ্য হয় নি। তবে পাণ্ডুলিপি পড়ে মনে হল, তিনি কবিতার অন্তর্গত সত্তায় সদা বিচরণশীল। তা না হলে  তিনি কীভাবে রচনা করলেন

‘তোমায় কেড়ে নিতে পারি

শুন্য করে সব,

নতুন করে চিনবো তোমার

সকল অনুভব।’…….এর মতো স্তবক ‘শুন্যের অনুভব’ নামধেয় কবিতায়।

কবিতাপ্রেমী পাঠক নিশ্চয় অনুভব করবেন আমরা, সাধারণ পাঠকরা অনুভবকে যেখানে বুঝতে চাই বা জানতে চাই, সেখানে কবি গৌরী নন্দিতা চান চিনতে। চেনাটা তো  জানা-বোঝার চেয়ে গভীরতর। তার আগে তাও আবার চিনতে নয়, কেড়ে নিতে চান তাঁর প্রিয়তমকে সবকিছু শুন্য করে দিয়ে। সমর্পণের এমন প্রগাঢ় অনুভূতির প্রকাশ অন্তর্গত সত্তায় কবিতার আনাগোনা না থাকলে কি সম্ভব! এভাবে কাব্যগ্রন্থটির আরও অনেক কবিতায় আমরা দেখি কাব্যানুভবের প্রগাঢ়তা যা গৌরীর কবিতাকে এক ধরনের ঐশ্বর্য দান করেছে। হয়তো কবিতা নির্মাণের ক্ষেত্রে নন্দিতার কিছু কিছু দুর্বলতা কবিতার অভিনিবেশী পাঠকদের চোখে পড়বে। কিন্তু আমার ধারণাÑ তিনি যদি নিয়মিত কবিতা চর্চা করে যেতে পারেন তা হলে এসব দুর্বলতা সারাতে বেশি দিন লাগবে না। আমি তাঁর কবিতার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। কামনা করি তাঁর দীর্ঘজীবন।

অরুণ দাশগুপ্ত ,

ফেব্র“য়ারি ২০১৫

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “নৈশব্দের নীল স্বপ্নেরা”

Your email address will not be published. Required fields are marked *