চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য/CHATTOGRAMAR LOKOSHAHITTYO

যে কোন দেশের তথা যে কোন সাহিত্যের আদিতম পর্ব তার লোক সাহিত্য। অভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ যখন সামাজিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে অভিন্ন আশা আখাঙ্খা, প্রেম, ভালবাসা, আবেগ, ভাবনা, সুন্দর-অসুন্দরের ধারণা, কালচেতনা, ইন্দ্রিয়াতীত অনুভূতি ও উপলব্ধি, নৈতিকতাবোধ ইত্যাদি-এক কথায় মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধ যখন আত্মপ্রকাশ করে তার আদিতম, নিজস্ব মুদ্রা ও ভঙ্গীতে, শব্দে তালে ও চিত্রে তখনই আরম্ভ তার লোকসাহিত্য। যে রসধারা সাহিত্যের সকল শাখা-প্রশাখায় সঞ্চলিত, তারই আদিতম, রিালংকার, শুদ্ধতম রূপ লোক সাহিত্য। গত শতাব্দীর প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‌‌‌‌‌’লোক সাহিত্য’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেছিলেন- লোকসাহিত্যের নিজস্ব একটি সুর আছে যার আবেদন চিরন্তন। তিনি নিজে লোকসাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন, তাঁর কাব্যকৃতি ও তাঁর বহু উচ্চারণ এর সাক্ষ্য বহন করে। আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ যখন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হয়েছিলেন, তিনি সাহিত্য সংগ্রহের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের লোকসাহিত্যের ব্যাপারে তাঁর সবিশেষ আগ্রহের কথা তাঁকে জানান।
লোকসাহিত্য নির্মিতিতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। লোকসাহিত্য সমাজ নির্ভর। সমাজের অর্ন্তলীন মূল্যবোধের ধারণ করেই তার অস্তিত্ব। লোকসাহিত্য যেমন থাকবে সমাজের অন্তরের প্রতিফলন-তেমনি থাকবে সমাজের কর্মচাঞ্চল্যের অভিঘাত। ধর্মীয় অনুষঙ্গ আশ্রয়ী কাহিনী, আচার অনুষ্ঠান, উৎসব ইত্যাদি লোকসাহিত্যকে করে থাকে সমৃদ্ধ। বৃহত্তর চট্টগ্রামে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় বিশ্বের তিনটি শ্রেষ্ঠধর্ম ইসলাম, বৌদ্ধধর্ম ও উপমহাদেশের সনাতম ধর্ম- এই তিন ধর্মের একটি বিশেষ মিলনক্ষেত্র বৃহত্তম চট্টলভূমি। শুধু সহাবস্থান নয় এই তিন ধর্মের এক অপূর্ব সম্প্রতি ও সৌহার্দ্য ও এ অবস্থানকে করেছে সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত।
নিজ লোকসাহিত্যের একটি বিশেষ উপাদান। গিরি, নদী, অরণ্য শোভিত ও সাগর সান্নিধ্য। চট্টগ্রামের লোকসাহিত্যে নিসর্গের বিশেষ প্রভাব বর্তমান গ্রন্থের লেখকের বিশাল সংগ্রহের আগ্রহী পাঠকের দৃষ্টি এড়াবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।
এর পরে উল্লেখ্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক অবস্থান। যে সব উপদানে চট্টগ্রামের লোকসহিত্যের cropus গঠিত হয়েছে আমরা যেসবের উল্লেখ মাত্র করলাম। এ উদাহরণ সুপরিসরে পাওয়া যাবে বর্তমান গ্রন্থের বিশাল সংগ্রহের প্রাচুর্যে, বৈচিত্রে ও বৈভবে। ইতিহাস-গবেষক লেখক জামাল উদ্দিন অবশ্যই তাঁর বরেণ্য পূর্বসুরীদের পথে অগ্রসর হয়েছেন-তবে তাঁর কৃতিত্ব শুধুমাত্র পূর্বসুরীদের অনুগমের সীমাবদ্ধ নয়। জামাল উদ্দিন তাঁর নিজের পরিশ্রম সঙ্কুল বিপুল গবেষণায় চট্টগ্রামের লোকসাহিত্যের ভাণ্ডারে কিছু মৌলিক অবদান সংযোজন করেছেন যা চট্টলবাসী তথা- সকল বঙ্গ-ভাষাভাষীকে চিরকৃতজ্ঞ পাশে আবদ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি

প্রফেসর মোহাম্মদ আলী
প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ও প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর, সাদার্ন ইউনির্ভাসিটি

এ/২০, চান্দগাঁও আ/এ
চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম

৳ 700

About The Author

জামাল উদ্দিন

জামাল উদ্দিন

ইতিহাসের কিছু হীরক্ষন্ডকে উপহার দিয়েছেন। দুই পর্বে তাঁর প্রনীত দেয়াং পরগনার ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি আমাদের অতিহ্যের সম্পর্কসূত্র বহু সুদূরের। তিনি দ্বিতীয় খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত দেয়াঙয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন পন্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রথম সনাক্ত করেন।
জামাল উদ্দিন পেশায় সাংবাদিক। জন্ম ৮মে ১৯৫৯। চট্টগ্রাম জেলা আনোয়ারা থানার শিলাইগড়া গ্রামে। ৬৯-৭০ সালে কৈশোর জীবন থেকে ঘনিষ্ঠভাবে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি তাঁর আকর্ষন। জামাল উদ্দিন ৭৫’-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরবর্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন। সেই কৈশোরকাল থেকে একই সাথে তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্র অ সাময়িকীতে গবেষনামূলক লেখালেখি শুরু করেন। কলেজ জীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতাকে বেঁচে নিয়েছেন ১৯৮০ সাল থেকে । জাতীয় দৈনিক বাংলা বানী। চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক সেবক-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবনের শুরু। পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক রুপালী , দৈনিক খবর ও দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সটাফ রিপোর্টার ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ পদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকতা জীবন অতিবাহিত করেছেন।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য/CHATTOGRAMAR LOKOSHAHITTYO”

Your email address will not be published. Required fields are marked *