চট্টগ্রামের লোকসাহিত্যে বিধৃত লোকজীবন/CHATTAGRAMER LOKO SHAHITTEYE BIDRITYO LOKLJIBON

প্রাক-কথন।

তিন দশক আগের কথা। আমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা গ্রামে থাকতাম আমরা। আমাদের গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, কথায় কথায় বিভিন্ন প্রবাদ ব্যবহার করতাে। তাদের উচ্চারিত এসব প্রবাদ কিছু কিছু বুঝতে পারতাম, বেশিরভাগই বুঝতে পারতাম না। কিন্তু শুনতে ভালাে লাগতাে। অনুভব করার চেষ্টা করতাম কোন প্রসঙ্গে এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। এসবের অর্থ কী হতে পারে। কিছু কিছু প্রবাদ মনে রাখার এবং মুখস্থ করার চেষ্টা করতাম। কিছু প্রবাদ প্রবচন সরল ছিল বিধায় বুঝতে পারতাম, কিন্তু যেগুলি বুঝতে পারতাম

, সেগুলির জন্য খারাপ লাগতাে, কারণ সেগুলিও শুনতে ভালাে লাগতাে। এর কয়েক বছর পর আমি কিছু কিছু প্রবাদ বিভিন্নজন থেকে সংগ্রহ শুরু করি। এক সময় আমার ডায়েরি অনেকগুলি প্রবাদ বাক্যে ভরে উঠে। আমাদের এক ফুফু আসামে থাকতেন। দেশ বিভাগের অনেক পরে তারা আসাম থেকে চট্টগ্রামে দেশের বাড়িতে চলে আসেন। ফুফু প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করতেন। তিনি অনেক রূপকথা, উপকথা, প্রবাদ, ছড়া, লােককাহিনি আমাদের শােনাতেন। আমরা দুপুরে, কিংবা রাত্রে খাওয়ার পরে ঘুমানাের সময় এসব লােককাহিনি (আমাদের ভাষায় “খিস্তা’) শােনার জন্য বায়না ধরতাম, জোরাজুরি করতাম। আমাদের ক্রমাগত আবদারের চাপে পড়ে তিনি রীতিমতাে বিরক্ত হতেন। একপর্যায়ে আমাদের বাড়িতে আসা কমিয়ে দিলেন বার্ধক্যজনিত কারণে। মা বলতেন, তােমাদের যন্ত্রণায়। আর একটু বড় হওয়ার পরে আমি আকৃষ্ট হলাম চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের প্রতি। ধীরে ধীরে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের প্রতি মােহ এতটা বেড়ে যায় যে, কোনাে কোনাে প্রিয় শিল্পীর প্রিয় কোনাে গানের কেসেট বার বার শােনতাম। সে-সময় শেফালী ঘােষ, কল্যাণী ঘােষ, শ্যামসুন্দর বৈষ্ণবের গান জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। গ্রামে কিংবা শহরে যাত্রা, নাটক, বিচিত্রানুষ্ঠান নামক পাঁচমিশালি বিভিন্ন বিচিত্রা অনুষ্ঠান আয়ােজিত হতাে। আমরা নাচ ও গানের আকর্ষণে শীতের রাতে এসব দেখার জন্য দল বেঁধে ছুটতাম। তখন ব্যান্ড শাে’ নামক আজকের মিউজিক্যাল শাে-এর জনপ্রিয়তার জোয়ার আসে নি। সে সব তখন হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে এগিয়ে যাচ্ছিল। আজকের ব্যান্ড শাে’র শিল্পীরা সে সময়ের জনপ্রিয় আঞ্চলিক গানের শিল্পীদের থেকে অনুপ্রাণিত কিনা জানি না, তবে জনপ্রিয় অনেক শিল্পীর উত্থান ঘটেছিল চট্টগ্রাম থেকে। যেমন, তপন চৌধুরী, কুমার বিশ্বজিৎ, আব্দুল মান্নান রানা, আইয়ুব বাচ্চু, এস. আই. টুটুল, নকিব খান, হ্যাপী আখন্দ, মিলা, পার্থ বড়ুয়ার, রবি চৌধুরী, শিরিন, নিশিতা বড়ুয়া, রন্টি……….

 

শফিউল আযম ডালিম

অধ্যাপক

বাংলা বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ‌্যালয়

 

৳ 200

About The Author

ড. শফিউল আযম ডালিম

ড. শফিউল আযম ডালিম

ড. শফিউল আযম ডালিম চট্টগ্রামের। হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদশাি গ্রামে। ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পাঠ শেষ করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন। বর্তমানে তিনি এই বিভাগেরই সহযােগী অধ্যাপক। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক অশ্রকুমার শিকদারের অধীনে ১৯৯৯ সালে বাংলা। উপন্যাসে পঞ্চাশের মন্বন্তর বিষয়ে গবেষণার জন্য পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে লেখালেখির সঙ্গে। তার ঘনিষ্ঠতা ও সখ্যতার প্রমাণ মিলে । ১৯৮৭ সালে তিনি সম্পাদনা করেন ‘পদাহত প্রতিশ্রুতি' নামক লিটল। ম্যাগাজিন। তিনি ছিলেন ‘গাংচিল লেখক শিল্পী গােষ্ঠী’র যুগ্ম-সম্পাদক।
১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস কোন পাপ করিনি। দ্বিতীয় - উপন্যাস ‘সুখের পথে এক ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতার রাজ্যেও তিনি বিচরণ করেছেন। স্বকীয়তায় ও ভিন্নধর্মী রােমান্টিকতায় নির্মান করেন এক অপরূপ প্রেমের কাব্য 'নােবেল অস্কার তুমি'(১৯৯৫)। এ কাব্যে ভালবাসার প্রশ্নে তাঁর দীপ্ত উচ্চারণ প্রেয়সীকেই চাই, “নােবেল' অথবা “অস্কার’ নয় । রম্যরচনায়ও তিনি সিদ্ধ - হস্ত, তার প্রমাণ “অরাজনীতি' গ্রন্থটি। তাঁর প্রকাশিত গবেষণামূলক গ্রন্থ হলাে । দুই বাংলার উপন্যাস প্রেক্ষিত দুর্ভিক্ষ ।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “চট্টগ্রামের লোকসাহিত্যে বিধৃত লোকজীবন/CHATTAGRAMER LOKO SHAHITTEYE BIDRITYO LOKLJIBON”

Your email address will not be published. Required fields are marked *