গল্প ও গল্প

জীবন থেকে নেয়া, জীবনের কাছা কাছি এগারোটি পাঁচমেশালী গল্প স্থান পেয়েছে বইটিতে। পাঠকদের এগুলো ভাল লাগবে।

কোনো কোনো গল্পে পাঠক মনের অজান্তেই হেসে উঠবেন। কোনো কোনোটিতে দুঃখ-ভারাক্রান্ত হবেন। চোখের কোণে জমে উঠবে দু’ফোটা জল।

৳ 140

About The Author

শেখ আব্দুল মুহিত

শেখ আব্দুল মুহিত

জন্ম ৭ই নভেম্বর, ১৯৬০ । চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজারে।
সেন্ট প্লাসিদস হাই স্কুল থেকে এসএসসি। সরকারি কমার্স কলেজ থেকে এইসএসসি ও বিকম । অতপর চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির কোর্স সম্পন্ন করা।
ছাত্র জীবনে মেধাবী হিসেবে সুনাম ছিল। বোর্ডের প্রীক্ষায় স্ট্যান্ডও করেছিলেন। পেয়েছিলেন নানা বৃত্তিও। আগাগোড়া ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখা করলেও মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ছিল আলাদা একটা টান। প্রবল আকর্ষন ও ভালোবাশা। পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে ছেলেবেলা থেকে লেখালেখির অভ্যাস ছিল। বিশেষ করে গল্প, রহস্য গল্প। বহু দেশ, জনপদ ঘুরে, মাটি ও মানুষের কাছে এসে সঞ্চয় করেছেন জীবনঘেষা নানা অভিজ্ঞতা। মাঝে মাঝে প্রতিফলন ঘটে তাঁর লেখায়।
দেশি বিদেশি দুটি ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে টানা আঠারো বছর চাকরি করে ,২০০৫ সন থেকে নিজেই একজন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী।

বলাকা প্রকাশনঃ

আমার প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘রহস্যজাল’ এ কিছু কথা লিখতে গিয়ে আমি লিখেছিলাম কথাগুলো। কিশোর বয়স থেকে যৌবন অবধি আমি কবি হতে চেয়েছিলাম। অল্প বয়সে একটা পদ্য লিখেছিলামÑ ‘ওই দেখো এক বুড়ো যায়, বারে বারে ফিরে চায়..।’ কচি হাতে লেখা সেই পদ্যটি একদিন পাঠিয়ে দিলাম চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক আজাদী’র ছোটোদের পাতা ‘আগামীদের আসর’ এ। একদিন অবাক বিস্ময়ে দেখলাম আমার সেই পদ্যটি পত্রিকাটিতে ছাপা হয়েছে। তারপর থেকেই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে অল্পস্বল্প লেখালেখি চলতে লাগলো।

কিন্তু যা বলছিলাম কবিতা আমি লিখতে পারি নি। সত্যি বলতে কী, আমার দ্বারা কবিতা লেখা হয়নি। কারণ, পূর্ণিমার চাঁদকে সব সময়ই আমার কাছে কেবল ঝলসানো একখণ্ড রুটিই মনে হয়েছে। যখনই কবিতা লিখতে হাতে কলম ধরেছি, তখনই চোখের সামনে ভেসে উঠেছে চলন্ত বাস থেকে সহকারীর ধাক্কা খেয়ে পথে নামতে গিয়ে চাকার নিচে পিষ্ট হওয়া রূপঙ্করের ক্ষতবিক্ষত লাশ। মাত্র সোয়া এক টাকা খরচের ত্যাগ স্বীকার করে এক পাতা মায়া বড়ি কিনে খেতে না পারার অক্ষমতায়, মনার মায়ের ফি বছর সন্তান ধারণের কারণে অভাবের আরো গভীরে তলিয়ে যাওয়াÑ আমাকে কবিতা লিখতে দেয়নি। রূপঙ্কর-মনার মায়েরা আমাকে গল্প লিখতে বাধ্য করেছে।

আমার এই বইটিতে স্থান পাওয়া প্রায় প্রতিটি গল্পই দৈনিক আজাদী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়েছে। তাই এই পত্রিকাটির কাছে আমার কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই।

আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ, বাক্য-পৃথিবীর কোনো ভাষাতেই এখনো আবি®কৃত হয়নি। সৃষ্টিকর্তা তা প্রকাশের পারঙ্গমতা কাউকে-ই দেননি। তাই এই সুযোগে শুধু একবার উচ্চারণ করে নিতে চাই আমার মাÑ বেগম মর্জিয়া খাতুনের নাম। এর চাইতে বেশি কিছু নয়।

১৯৮১ সালে মাত্র বারো-তেরো বছর বয়সে আমার সবচেয়ে ছোটো বোন ফওজিয়া সুলতানা (বিন্দু) হঠাৎ করেই আমাদের ছেড়ে চলে গেল। সে ছিল আমার খুব কাছের একজন। ওই বয়সেই সে মায়ের মতোই আমার খেয়াল রাখতো। তার হঠাৎ করে এই চলে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারি নি। আজ এত বছর পরও ওর কথা মনে পড়লে আমার কষ্ট হয়, বুকের ভেতরটা চিনচিন করে ওঠে। ওর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করলাম বইটি।

আমার শুভাকাঙ্খীর সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের ও আমার পরিবারের সব সদস্যের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য। বইটি প্রকাশে উৎসাহ যোগানোয় ধন্যবাদ জানাতে চাই জনাব সাখাওয়াত হোসেন মজনুকে। সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বলাকা প্রকাশনের কর্ণধার জনাব জামাল উদ্দিনের প্রতি। ধন্যবাদ জানাই এর সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রী প্রদীপ খাস্তগীর, শ্রী চন্দন সিংহ ও জনাব মেরুন হরিয়ালকে।

সবশেষে গ্রন্থটির নামকরণের ব্যাপারে দুটো কথা বলতে চাই। গ্রন্থটির নাম দিয়েছিÑ ‘গল্প, ও গল্প’। লেখক আশা করে গল্পগুলো পাঠকদের ভালো লাগবে। পাঠক একটা গল্প পড়া শেষ করে আরেকটি গল্পকে ডাকবেনÑ ‘গল্প, ও গল্প’ বলে।

গল্পগুলো পাঠকদের সামান্য ভালো লাগলেও পরবর্তীতে আরো গল্প নিয়ে

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “গল্প ও গল্প”

Your email address will not be published. Required fields are marked *