অকালে কেন মরবেন/OKALE KHANO MOURBAN

গ্রন্থকারের নিবেদন

মানুষের জীবন ধারণ ও বিকাশের প্রয়ােজনে বহু চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। সুস্থ লােকের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং রুগ্ন লােকের রােগ নিরাময়ে পরিপূর্ণ ব্যবস্থা হলাে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা। এই চিকিৎসা বিজ্ঞানে দেশীয় গাছ পালা, লতা-পাতা, গুল্ম ছাল ও শিকড় ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করা হয়। পরে চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রসারিত হয়ে উদ্ভিদ, খনিজ ও প্রাণিজ দ্রব্যাদি সংযুক্ত হয়। প্রথম এ ধরাপৃষ্ঠে উদ্ভিদ বা গাছ পালাকে মানুষে খাদ্যের উপাদান, গাছ মানুষের আশ্রয়স্থল, আবাস নির্মাণের উপকরণ, পরিধেয় আবরণ ও জ্বালানি এবং রােগ যন্ত্রণা, ব্যথা-বেদনা নিবারনের ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

আদি মানুষ শুরু থেকে উদ্ভিদকে ঔষধ বা শারীরিক যন্ত্রণার উপশমক রূপে ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুগে যুগে ভেষজ উদ্ভিদ সম্বন্ধীয় জ্ঞান সমৃদ্ধি লাভ করে আসছে। নিজের অস্তিত্বকে সুসংহত করে পৃথিবীতে টিকে থাকার স্বার্থে মানুষ আহরিত এই জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রসারিত হচ্ছে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে। কষ্টলব্ধ এই জ্ঞান কখনও কালের গহ্বরে হারিয়ে না গিয়ে উত্তরােত্তর সমৃদ্ধি লাভ করছে।

সভ্যতার ক্রম বিকাশ ও বিবর্তনে কালক্রমে ওষুধরূপে ওষুধি উদ্ভিদেও প্রয়ােগ ও ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে উৎকর্ষ লাভ করেছে। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর পূর্বে বেবিলনীয় যুগেও উদ্ভিদ ফলপ্রসূ ভেষজ ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হত। উদ্ভিদে ওষুধি গুণ প্রমাণিত সত্য হিসাবে আধুনিক যুগে এ্যালােপ্যাথিকের প্রতিযােগিতায় নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে স্বগর্বে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুগে যুগে বিভিন্ন পদ্ধতি ও বিভিন্ন অবস্থায় এসব উদ্ভিদ উপাদান ব্যবহার করে প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ স্বাস্থ্য রক্ষা করেছে। অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা করে নিজের জীবন বাঁচিয়ে ধরাপৃষ্ঠে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়াস পেয়েছে। রােগ প্রতিরােধ ও রােগ নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধি উদ্ভিদ ও সেগুলাের বিভিন্ন পরিবর্তিত, পরিমার্জিত এবং রূপান্তরিত অবস্থাকে সাধারণভাবে ভেষজ ও হারবাল ওষুধ নামে অবিহিত করা হয়ে থাকে।

প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যু চিরন্তন সত্য, রােধ অসাধ্য। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আয়ুষ্কালে কারণে অকারণে মানুষ নানা রােগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা স্তরে না যাবার জন্য রােগ প্রতিরােধ শক্তি বৃদ্ধির…………………..

৳ 200

About The Author

কায়কোবাদ চৌধুরী

কায়কোবাদ চৌধুরী

কায়কোবাদ চৌধুরী কৃষিবিদ কায়কোবাদ চৌধুরী আয়ুর্বেদ চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডি.এ.এম.এস ডিগ্রিধারী । তিনি খ্যাতনামা উপন্যাস লেখক এবং সমাজ গবেষক। অনেক সেবামূলক সংগঠনের সাথে জড়িত। এ.আর.টি. ট্রাস্টের চেয়ারম্যান। জন্ম হতে বেড়ে উঠেছেন গ্রাম ও সমাজ ব্যবস্থার অবকাঠামাের ভিতর।। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের জীবনাচার, তাদের কর্ম সৃষ্টিসমূহ, জানার, বিশেষণ, উপলব্দী ও উপভােগ করার আগ্রহে কোন সময়ে পড়েনি ভাটা । সমাজ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে দেখেছেন মানবের জীবন জীবিকার অবস্থা। উপলব্ধি করেছেন মানুষের রােগ শােকের আহাজারি। অবলােকন করেছেন রােগ ব্যাধির প্রসারতা। সামান্য অবহেলায় ব্যাপক ধরনের সংসার ট্র্যাজেডি। অনুভব করেছেন মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতির করুণা ভান্ডার, অপচয় ও বিনষ্টের ফলে নিয়তি নির্ভর নির্মমতার দুঃখ ভারাক্রান্ত বেদনাদায়ক কর্মকান্ড। এ সবের অবসান নিরসনে ও প্রতিকারের লক্ষে তিনি জীবন দৃষ্টি আলােকে দেহ ব্যাধি ও মনের সুস্থতায় অকালে কেন মরবেন পুস্তকখানি রচনা করেছেন। জীবন এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে। দেহটা মানুষের অশেষ মূল্যবান সম্পদ। স্থাবর সম্পদ সব বিক্রি করেও মানুষ জীবন বাঁচাতে চায়। ধনাঢ্য মানুষের কাছে প্রতিটা দিনই এক নতুন জীবন। মানুষের কাছে ধন সম্পদের চেয়ে প্রিয় হল জীবন। তাই দেহটা নিরােগ রাখতে চলা ফেরা, আহার বিহার কিছু বিধি বিধান মেনে চলা দরকার। বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে বার্তাটা পৌছে দেয়ার প্রয়াসে তিনি পুস্তকটি লিখেছেন। বর্তমানে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজনের অকাল মৃত্যু। জীবনাচারে এ সত্যটি নিহিত। এ পুস্তকে মানব চিকিৎসা বিজ্ঞানের কটি শাখা নিয়ে সুস্থ থাকার বিধান ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজের অজান্তে, মানুষ অনেক সময় খেয়ালীপনায় অকালে জীবন সপে। দিচ্ছে মরণ ব্যাধির কবলে। বর্তমান ডিজিটাল সংস্কৃতির প্রজন্ম সুস্থ সাবলীল জীবনে বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে পাবার উদ্দেশ্যে পুস্তকটির প্রকাশ। এই ডিজিটাল প্রজন্ম অতি আধুনিক হতে চলেছে। তারা প্রকৃতির প্রতি বড়ই উদাস। প্রকৃতিতে লালন পালন হয়ে প্রকৃতিকে অবজ্ঞা করে আধুনিক শৈলী স্থাপনায় পরিশ্রম বিহীন জীবন যাপনের অভ্যাসে জীবনকে গ্রাস করছে নতুন নতুন ব্যাধি । নিজের সৃষ্ট ব্যাধি নিবারণে নিজ আয়ের অর্ধেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে রােগ মুক্তির চেষ্টায়।। আলাহ পাক প্রকৃতির পরিবেশে সৃষ্টির জন্য রেখেছেন উত্তম ব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু সমাধান। অধিকাংশ মানুষ অবজ্ঞা, অবহেলা ও অজ্ঞানে সত্য দর্শন-উদ্ভিদের গুণাগুণ বিচারে এবং প্রয়ােগ অনুশীলনে চিকিৎসা বিদ্যায় সম্পূর্ণ অজ্ঞ । নব বিজ্ঞান চিকিৎসায় আয়ু অর্থ ব্যয় করেও ক্ষয়। ভেষজ চিৎিসায় আয়ু ও অর্থ বৃদ্ধি। রােগ নিরাময়ে ভেষজ চিকিৎসায় সময়ক্ষেপন হয় বিধায় রােগাক্রান্ত মানুষ ধৈৰ্য্যহীন হয়ে ব্যয় করে ধন সম্পদ। দীর্ঘ সুস্বাস্থ্য জীবন লাভ করতে হিতকর চিকিৎসা হল আয়ুর্বেদ চিকিৎসা।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “অকালে কেন মরবেন/OKALE KHANO MOURBAN”

Your email address will not be published. Required fields are marked *