Balaka Publication

হাঁটি হাঁটি পা পা করে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘বলাকা প্রকাশন’ প্রতিষ্ঠার দু’যুগ পেরিয়ে গেছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলাম। অনেক স্বপ্ন পূরণও হয়েছে। অপূরণের খাতাটাও হয়তো বেশ লম্বা। তারপরও মানুষ স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। স্বপ্নই অনুপ্রেরণা দেয়।
‘বলাকা প্রকাশন’ এখন দেশ ও দেশের বাইরে অবস্থানরত আট শতাধিক বাঙালি লেখকের পরিবার। আমাদের রয়েছে অগুণতি পাঠক আর শুভানুধ্যায়ী। এটাও বেঁচে থাকার একটা অনুপ্রেরণা।
প্রিয় লেখক-পাঠক বর্তমানে বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনার অগ্রযাত্রা ভয়ংকর হুমকির সম্মুখিন। তারপরও আপনাদের সাহস আর অনুপ্রেরণায় আমরা অব্যাহত রেখেছি আমাদের কর্মযাত্রা।
যুগের চাহিদা, তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশ আর মানুষের কর্মব্যস্তময় এই একুশ শতকে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বপ্নময় পথকে আরও গতিশীল করার তাগিদ অনুভব করছি।
প্রত্যাশা নিরন্তর। পাশে পাবো আপনাদের সবাইকে।

লুণ্ঠিত আরাকানে রোহিঙ্গা জাতির আর্তনাদ

‘লুণ্ঠিত আরাকানে রোহিঙ্গা জাতির আর্তনাদ’ এটি আমার গবেষণা গ্রন্থের একটি। গ্রন্থটির কাজ শুরু করেছিলাম ২০০১ সাল থেকে । ২০০৮ সালে গ্রন্থটি প্রকাশের কথা ছিল। তবে এই নামে নয়। প্রায় দেড় হাজার পৃষ্ঠার গ্রন্থটির নামকরণ করেছিলাম ‌‌ ‘হাজার বছরের চট্টগ্রাম-আরাকান’। আর্থিক সমস্যার কারণে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। বেশ কয়জন বিত্তবান মানুষ গ্রন্থটি প্রকাশ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা সরে দাড়ালেন। গ্রন্থটিতে আছেচট্টগ্রাম-আরাকানের জনবসতি, রাজনীতি, সামাজিকতাসহ নানা বিষয় নিয়ে এক হাজার বছরের ইতিহাস। এই গ্রন্থের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য একাধিকবার আরাকানে যেতে হয়েছে আমাকে। সেখানে নানা সমস্যার সম্মুখিনও হয়েছি। কিন্তু গ্রন্থটি প্রকাশের মুখোমখি এসে অর্থাভাবে প্রকাশ করতে পারলাম না। অনেকে কথা দিয়ে কথাও রাখলেন না। এই মুহুর্তে আরাকানে চলছে রোহিঙ্গা জাতির আর্তনাদ। তাই আর বসে থাকতে পারছিনা। যাদের জন্য গ্রন্থটি লেখা তাদের এই দুসময়ে আর নীরব থা্কা যায় না। দেড় হাজার পৃষ্ঠার গ্রন্থটি সারসংক্ষেপ করে মাত্র ২০০ পৃষ্ঠায় ‘লুণ্ঠিত আরাকানে রোহিঙ্গা জাতির আর্তনাদ’ নামকরণ করে খুব দ্রুত পাঠকের হাতে পেৌছে দেয়ার প্রচেষ্ঠায় আছি। গ্রন্থটি পাঠে একজন পাঠকের জানা সম্ভব হবে রোহিঙ্গারা কারা? আরাকান রাজ্যটি কোথায়? বিশ্বের মানচিত্রে এই রাজ্যটি এখন আর নেই। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে
বার্মার রাজা বোধপায়া এই রাজ্যটি দখল করে নেয়ার পর থেকে আরাকান অধিবাসী রাখাইন, মার্মা, রোহিঙ্গা, চাকমাসহ প্রায় ১৫টি জাতিগোষ্ঠী বার্মিজদের অত্যাচারে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে চলে আসে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামে ।বর্তমানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারে তারা স্থায়ী হয়ে আছে। বাকী যারা আছে তারা নির্যাতিত হতে হতে ১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত চট্টগ্রামে আসা অব্যাহত রয়েছে। বার্মিজরা তাদেরকে বলছে বাঙালি। কথাটি মোটেই সত্যি নয়। তারা আরাকানী রোহিঙ্গা। গ্রন্থটি পাঠে জানা যাবে অনেক পেছনের ইতিহাস…

ডঃ অনুপম স্যারের লেখা